১১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২৫০ আসনে সমঝোতা: জামায়াত–এনসিপি কে কত আসনে লড়বে; ঐক্য ঘোষণার সময়ে নেই ইসলামী আন্দোলন

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১২:৩৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৬ বার পড়া হয়েছে।

‎বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

‎এই ঘোষণামঞ্চে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের জন্য চেয়ার রাখা হলেও তিনি বা তাঁর দলের কেউ সেখানে যোগ দেননি। ফলে এখন পর্যন্ত কার্যত ১০ দলকে সমঝোতায় দেখা যাচ্ছে।

‎নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার জন্য আজ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন ১০ দলের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ ও ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। সেখানে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫০টি আসনে সমঝোতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷

‎রাত আটটায় এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করাসহ যাবতীয় প্রস্তুতিও শুরু হয় ঘণ্টাখানেক আগে। তবে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে আসেন ৮টা ৪০ মিনিটে। সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

‎তিনি জানান, সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯ আসনে এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৩০টি আসনে। ঐক্যভুক্ত মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসন পাচ্ছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন সমঝোতায় থাকলেও তাদের আসন এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান জামায়াত নেতা তাহের।

‎আশা করছি তাঁরা থাকবেন: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

‎পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জোট ভাঙেনি, জোট আছে। কোনো একটা দল যে কারণেই হোক একমত হলো না। এর মানে তো জোট ভাঙা নয়। এটি আসলে জোটও নয়, নির্বাচনী ঐক্য।

‎ইসলামী আন্দোলনের নাম উল্লেখ না করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি দল সূচনায় আমাদের সঙ্গে ছিল, কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে না। এটা ভাঙনের কোনো ব্যাপার নয়। তাঁরা নিজেদের নিয়ে আরও বোঝাপড়া করছেন৷ তাঁদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তাঁরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। আমরা আশা করছি, তাঁরা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’

‎এদিকে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে দলের অবস্থান জানাতে আগামীকাল শুক্রবার বেলা তিনটায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ইসলামী আন্দোলন। ঢাকার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে রাত সাড়ে আটটার দিকে দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

‎সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এরপর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বক্তব্য দেন। সবার শেষে নির্বাচনী ঐক্যের বিষয়ে মুখ্য বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

‎মঞ্চে আরও ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজী, বিডিপির সভাপতি এ কে এম আনোয়ারুল হক, জাগপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ। এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

‎সংবাদ সম্মেলন শেষে ১০ দলের নেতারা হাতে হাত ওপর তুলে ধরে ঐক্যের বার্তা দেন। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন।

‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল গতকাল বুধবার। গতকাল বিকেল সাড়ে চারটায় ওই সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও পরে স্থগিত করা হয়। মূলত সমঝোতায় আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

‎পরে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা৷ এই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন ছিল না।

‎সুনামগঞ্জ–১ ও সুনামগঞ্জ–৩

‎ঘোষণা অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ–১ আসনে জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। আর সুনামগঞ্জ–৩ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ শাহীনুর পাশা চৌধুরী। ফলে এই দুই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ খান ও ইয়াসীন খান মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন।

‎এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নির্বাচনী ঐক্য আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চূড়ান্ত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়, যা জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, জোটের অন্যান্য দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে আসন বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।

‎এদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই জোটের নেতারা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। তারা জনগণের কাছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরছেন এবং সমর্থন কামনা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জোটের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং নির্বাচনী প্রচারণার কৌশলের ওপর।

‎অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। তারা এই জোটের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা করছে। সামগ্রিকভাবে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

২৫০ আসনে সমঝোতা: জামায়াত–এনসিপি কে কত আসনে লড়বে; ঐক্য ঘোষণার সময়ে নেই ইসলামী আন্দোলন

আপডেট সময়ঃ ১২:৩৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

‎বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

‎এই ঘোষণামঞ্চে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের জন্য চেয়ার রাখা হলেও তিনি বা তাঁর দলের কেউ সেখানে যোগ দেননি। ফলে এখন পর্যন্ত কার্যত ১০ দলকে সমঝোতায় দেখা যাচ্ছে।

‎নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার জন্য আজ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন ১০ দলের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ ও ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। সেখানে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫০টি আসনে সমঝোতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷

‎রাত আটটায় এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করাসহ যাবতীয় প্রস্তুতিও শুরু হয় ঘণ্টাখানেক আগে। তবে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে আসেন ৮টা ৪০ মিনিটে। সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

‎তিনি জানান, সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯ আসনে এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৩০টি আসনে। ঐক্যভুক্ত মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসন পাচ্ছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন সমঝোতায় থাকলেও তাদের আসন এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান জামায়াত নেতা তাহের।

‎আশা করছি তাঁরা থাকবেন: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

‎পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জোট ভাঙেনি, জোট আছে। কোনো একটা দল যে কারণেই হোক একমত হলো না। এর মানে তো জোট ভাঙা নয়। এটি আসলে জোটও নয়, নির্বাচনী ঐক্য।

‎ইসলামী আন্দোলনের নাম উল্লেখ না করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি দল সূচনায় আমাদের সঙ্গে ছিল, কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে না। এটা ভাঙনের কোনো ব্যাপার নয়। তাঁরা নিজেদের নিয়ে আরও বোঝাপড়া করছেন৷ তাঁদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তাঁরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। আমরা আশা করছি, তাঁরা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’

‎এদিকে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে দলের অবস্থান জানাতে আগামীকাল শুক্রবার বেলা তিনটায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ইসলামী আন্দোলন। ঢাকার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে রাত সাড়ে আটটার দিকে দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

‎সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এরপর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বক্তব্য দেন। সবার শেষে নির্বাচনী ঐক্যের বিষয়ে মুখ্য বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

‎মঞ্চে আরও ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজী, বিডিপির সভাপতি এ কে এম আনোয়ারুল হক, জাগপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ। এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

‎সংবাদ সম্মেলন শেষে ১০ দলের নেতারা হাতে হাত ওপর তুলে ধরে ঐক্যের বার্তা দেন। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন।

‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল গতকাল বুধবার। গতকাল বিকেল সাড়ে চারটায় ওই সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও পরে স্থগিত করা হয়। মূলত সমঝোতায় আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

‎পরে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা৷ এই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন ছিল না।

‎সুনামগঞ্জ–১ ও সুনামগঞ্জ–৩

‎ঘোষণা অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ–১ আসনে জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। আর সুনামগঞ্জ–৩ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ শাহীনুর পাশা চৌধুরী। ফলে এই দুই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ খান ও ইয়াসীন খান মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন।

‎এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নির্বাচনী ঐক্য আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চূড়ান্ত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়, যা জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, জোটের অন্যান্য দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে আসন বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।

‎এদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই জোটের নেতারা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। তারা জনগণের কাছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরছেন এবং সমর্থন কামনা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জোটের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং নির্বাচনী প্রচারণার কৌশলের ওপর।

‎অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। তারা এই জোটের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা করছে। সামগ্রিকভাবে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।