০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

চা-দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, অভিযানে জব্দ ১ বস্তা খাতা , শিক্ষক আটক

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩৪ বার পড়া হয়েছে।

‎হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:

‎০২ আগস্ট ২০১২৬

‎চায়ের দোকানে বসে আড্ডা ও ধূমপানের ফাঁকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষকের পাশাপাশি তাঁর বন্ধুরা মিলে উত্তরপত্র দেখছিলেন—এমন অভিযোগে সিলেটের এক কলেজ প্রভাষকের কাছ থেকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রায় এক বস্তা (৪০০ খাতা) উত্তরপত্র জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। 

‎গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকানে এই অভিযান চালানো হয়।

‎অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি সিলেট শিক্ষা বোর্ডের তালিকাভুক্ত একজন পরীক্ষক।

‎যেভাবে ধরা পড়লেন শিক্ষক;

‎স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের সামনের ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে খাতা মূল্যায়ন করছিলেন প্রভাষক ইকবাল হোসেন। এ সময় একটি চালের বস্তা থেকে খাতা বের করে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুরা (যাঁদের মধ্যে শাবিপ্রবির কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীও ছিলেন) উত্তরপত্রগুলো দেখছিলেন।

‎খবর পেয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিনসহ বোর্ডের কর্মকর্তারা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই চায়ের দোকানে অভিযান চালান। এ সময় হাতেনাতে খাতা দেখা অবস্থায় শিক্ষক ইকবালকে ঘিরে ধরা হয় এবং প্রায় ৪০০ খাতার ওই বস্তাটি জব্দ করা হয়।

‎আগের দিনও চলেছে অনিয়ম,

‎স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কেবল শনিবার রাতেই নয়, এর আগের দিন শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতেও একই চায়ের দোকানে বসে ওই শিক্ষক ও তাঁর বন্ধুরা মিলে চা-সিগারেটের আড্ডার ফাঁকে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেছিলেন। জনবহুল ও উন্মুক্ত স্থানে শিক্ষার্থীদের সংবেদনশীল ও গোপনীয় মূল্যায়নপত্র এভাবে নিয়ে আসার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:

‎ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেনকে প্রথমে জালালাবাদ থানায় এবং পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল দাবি করেন, “সেখানে কোনো খাতা মূল্যায়ন করা হয়নি। সেগুলো আগেই দেখা হয়েছে। মূল্যায়ন করা খাতাগুলি কুরিয়ার করতে নিয়ে যাবার পথে সেখানে বসে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম ।

‎তবে তাঁর এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশিকা ও গোপনীয়তা কঠোরভাবে লঙ্ঘন করে জনবহুল স্থানে খাতা মূল্যায়নের অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে।

‎লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী পাবলিক পরীক্ষার খাতা এভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে চায়ের দোকানের খোলামেলা পরিবেশে নিয়ে যাওয়া এবং অন্যদের দিয়ে তা যাচাই করানোর ঘটনায় শিক্ষক সমাজে ও সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

চা-দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, অভিযানে জব্দ ১ বস্তা খাতা , শিক্ষক আটক

আপডেট সময়ঃ ০৪:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

‎হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:

‎০২ আগস্ট ২০১২৬

‎চায়ের দোকানে বসে আড্ডা ও ধূমপানের ফাঁকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষকের পাশাপাশি তাঁর বন্ধুরা মিলে উত্তরপত্র দেখছিলেন—এমন অভিযোগে সিলেটের এক কলেজ প্রভাষকের কাছ থেকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রায় এক বস্তা (৪০০ খাতা) উত্তরপত্র জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। 

‎গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকানে এই অভিযান চালানো হয়।

‎অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি সিলেট শিক্ষা বোর্ডের তালিকাভুক্ত একজন পরীক্ষক।

‎যেভাবে ধরা পড়লেন শিক্ষক;

‎স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের সামনের ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে খাতা মূল্যায়ন করছিলেন প্রভাষক ইকবাল হোসেন। এ সময় একটি চালের বস্তা থেকে খাতা বের করে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুরা (যাঁদের মধ্যে শাবিপ্রবির কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীও ছিলেন) উত্তরপত্রগুলো দেখছিলেন।

‎খবর পেয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিনসহ বোর্ডের কর্মকর্তারা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই চায়ের দোকানে অভিযান চালান। এ সময় হাতেনাতে খাতা দেখা অবস্থায় শিক্ষক ইকবালকে ঘিরে ধরা হয় এবং প্রায় ৪০০ খাতার ওই বস্তাটি জব্দ করা হয়।

‎আগের দিনও চলেছে অনিয়ম,

‎স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কেবল শনিবার রাতেই নয়, এর আগের দিন শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতেও একই চায়ের দোকানে বসে ওই শিক্ষক ও তাঁর বন্ধুরা মিলে চা-সিগারেটের আড্ডার ফাঁকে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেছিলেন। জনবহুল ও উন্মুক্ত স্থানে শিক্ষার্থীদের সংবেদনশীল ও গোপনীয় মূল্যায়নপত্র এভাবে নিয়ে আসার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:

‎ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেনকে প্রথমে জালালাবাদ থানায় এবং পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল দাবি করেন, “সেখানে কোনো খাতা মূল্যায়ন করা হয়নি। সেগুলো আগেই দেখা হয়েছে। মূল্যায়ন করা খাতাগুলি কুরিয়ার করতে নিয়ে যাবার পথে সেখানে বসে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম ।

‎তবে তাঁর এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশিকা ও গোপনীয়তা কঠোরভাবে লঙ্ঘন করে জনবহুল স্থানে খাতা মূল্যায়নের অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে।

‎লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী পাবলিক পরীক্ষার খাতা এভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে চায়ের দোকানের খোলামেলা পরিবেশে নিয়ে যাওয়া এবং অন্যদের দিয়ে তা যাচাই করানোর ঘটনায় শিক্ষক সমাজে ও সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।