ছাতক থানার ওসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আদালতের
- আপডেট সময়ঃ ০১:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৬৯ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের ছাতক থানার একটি মামলার তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা ও আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুহাম্মদ শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার চাকরির ডোসিয়ারে (চাকরির নথি) আদালতের আদেশটি বিরূপ মন্তব্য হিসেবে নোট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। আদেশটি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা এবং অন্যান্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ছাতক থানার মামলা নম্বর-১৭, তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৫ থেকে উদ্ভূত জিআর মামলা নম্বর-৩৪৫/২০২৫ (ছাতক)-এর তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই মুহাম্মদ শরীফুল আলম। তিনি ছাতক থানার অভিযোগপত্র নম্বর-০২, তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ আদালতে দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অভিযোগপত্রে প্রাথমিকভাবে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত না হওয়ায় আদালত তা গ্রহণ করেন। বর্তমানে মামলাটি অভিযোগ গঠন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে বিচারাধীন রয়েছে।
তবে পরবর্তীতে একই মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারা সংযুক্ত করে একটি সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, সম্পূরক অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনা করে নতুন কোনো সাক্ষ্য উদঘাটনের বিষয় পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, মূল অভিযোগপত্র দাখিলের সময় তদন্ত কর্মকর্তা হয় অমনোযোগী ছিলেন, অথবা দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা দেখিয়েছেন। আদালতের মতে, অভিযোগপত্র দাখিলের পর নতুন কোনো সাক্ষ্য উদঘাটিত না হলে এবং আদালতের নির্দেশনা ছাড়া সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ নেই।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, আইনের বিধান যথাযথভাবে উপলব্ধি না করে তদন্ত কর্মকর্তা সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করায় মামলার বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ছাতক থানার ওসি বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করে গতানুগতিকভাবে সম্পূরক অভিযোগপত্রটি আদালতে অগ্রগামী করেছেন বলেও আদালত উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওসিকে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি এবং লিখিত জবাবও দাখিল করেননি।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, তাদের এ ধরনের আচরণ আদালতের আদেশের প্রতি অবজ্ঞা এবং দৃশ্যত আদালত অবমাননার শামিল। তারা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে উপস্থিত হননি এবং লিখিত জবাব দেওয়ার প্রয়োজনও বোধ করেননি।
এ কারণে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন বলে আদালত মনে করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে এসআই মুহাম্মদ শরীফুল আলম ও ছাতক থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আদালতের আদেশটি আইজিপি ও অন্যান্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে তাদের চাকরির ডোসিয়ারে আদালতের আদেশটি বিরূপ মন্তব্য হিসেবে নোট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।










