তাহিরপুর উপজেলা সদর – বাদাঘাট বাজার সড়কে খালের মুখ বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে খেয়া পারপার; ভোগান্তিতে জনসাধারণ
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট থেকে তাহিরপুর উপজেলা সদরের শুকনো সড়কে পাতারগাও খালের মুখ বাধ দিয়ে পানি আটকি খেযা পারাপার করা হচ্ছে।
খেয়া পারাপারের নামে ইজারাদার শুকনো সড়কেই প্রতি সপ্তাহে হাতিয়ে নিচ্ছে যাত্রী সাধারনের কাছ থেকে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা।
বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে মোটর সাইকেল চালক সহ এই পথে চলাচলকারী যাত্রী সাধারন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর মৌখিক অভিযোগ করে।
উপজেলা সদর থেকে বাদাঘাট এলজিইডি সড়ক পথের দুরত্ব ৮ কিলোমিটার। সড়কে পাতারগাওঁ নামক স্থানটি বিগত বছরের বন্যায় ভেঙ্গে যাওযার কারনে এ পথে মোটর সাইকেল ও যাত্রী সাধারনের পারাপারের জন্য (যত দিন পানি থাকে তত দিন) চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে ইজারা প্রদান করে উপজেলা নির্বাহী অফিস। ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকায় ইজারা পায় পাতারগাওঁ গ্রামের আব্দুস সামাদ।

সম্প্রতি পনের বিশদিন ধরে সড়কের পাতারগাওঁ খালে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ইজারাদারদের লোকজন খালের মুখে বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে নৌকায় করে লোকজন পারাপার করছে। প্রতি মোটর সাইকেল থেকে ৩০ টাকা এবং যাত্রি প্রতি ৫ টাকা করে আদায় করছে।
এ পথে উপজেলা সদরে যাতায়াতকারী বড়দল উত্তর ইউনিয়নের মানিগাও গ্রামের খোরশেদ আলম বলেন, বাধ দিয়ে পানি আটকানো হযেছে। যাতে লোকজন নৌকায় করে পারাপার হতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইজারাদারদের একজন বলেন, প্রতি সপ্তাহে এ ঘাটটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সে কারনে এই স্থানে পানি আটকিয়ে রাখা হয়েছে। যাতে তারা আরো কিছুদিন ব্যাবসা করতে পারে।

ঘাটের ইজারাদার আব্দুস সামাদ বলেন, কৃষকরা জমিতে পানি ধরে রাখার জন্য বাধ দিয়েছে। বাধ ভেঙ্গে দিলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। শুকনো সড়কে ইজারার নামে টাকা নেয়ার কোন ইচ্ছে আমাদের নেই।
উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি জাহিদুর রহমান বলেন, শুকিয়ে যাওয়া নদী বা খালে ইজারার টাকা নেযার নিয়ম নেই। ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি আমি বলবো।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান মানিক বলেন, বিষয়িটি অনেকে আমাকে জানিয়েছেন। দ্রুত বিষয়টি সমাধান করে দেযা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরো আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা হবে যাতে করে সাধারণ মানুষ আর কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন।
তাহিরপুর উপজেলার এই সমস্যাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীদের প্রতিদিনের যাতায়াতে অতিরিক্ত খরচ এবং সময়ের অপচয় হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এদিকে, এলাকাবাসীও আশা করছে যে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে এবং তারা স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারবেন।











