কুড়িগ্রামে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস; বিএনপি নেতাসহ ১১ জন আটক
- আপডেট সময়ঃ ০৮:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৭৮ বার পড়া হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগেই কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে এক সেচ্ছাসেবক দল নেতা ও ভুয়া পরীক্ষার্থীসহ’ সংঘবদ্ধ প্রশ্নফাঁস চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
এসময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার দুপুরে পৃথক দুটি অভিযানে উপজেলা শহরের কাজি মার্কেটের পিছনের একটি বাসা এবং থানা এলাকা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। তবে উদ্ধার হওয়া প্রশ্নপত্রের ফটোকপির সাথে পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রশ্নপত্রের মিল রয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটক সেচ্ছাসেবক দল নেতার নাম মিনারুল ইসলাম। তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় শুক্রবার বিকাল পৌনে চারটা পর্যন্ত নিশ্চিত করেনি পুলিশ। এদের মধ্যে প্রকৃত এবং ভুয়া পরীক্ষার্থী (প্রক্সি) রয়েছে।
পুলিশ জানায়, পরীক্ষা শুরুর আগে দুপুরে উপজেলার শহরের কাজি মার্কেটের পিছনের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সেচ্ছাসেবক দল নেতা মিনারুল ইসলামসহ ৬ জনকে আটক করা হয়। তারা প্রশ্নপত্রের ফটোকপি নিয়ে উত্তরপত্র প্রস্তুত করছিলেন। এদের মধ্যে মিনারুলসহ চারজন চক্রের সদস্য বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এছাড়াও পৃথক অভিযানে থানার সামনে একটি গাড়ির গতিরোধ করে চালকসহ আরও ৫ জনকে আটক করা হয়। তারা প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ও ডিভাইসসহ সটকে পড়ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে প্রকৃত ও ভুয়া পরীক্ষার্থী রয়েছে।
উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘ অভিযুক্ত ও আটক মিনারুল ইসলাম আমাদের কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি একই সাথে উপজেলা বিএনপির সদস্য। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’
ঘটনার পর নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শনে যান পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি। তিনি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের দিক নির্দেশনা দেন।
এসপি বলেন, ‘আটকদের মধ্যে পরীক্ষার্থী এবং প্রক্সি পরীক্ষার্থী রয়েছে। আটক সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে, ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনগণের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কিছু ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
তথ্যসহায়তাঃআমারদেশ











