দোয়ারাবাজারে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন: ৪ জনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, পালালেন কথিত মূলহোতা
- আপডেট সময়ঃ ১০:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৭ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত হিসেবে স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত কুদ্দুস মিয়া পালিয়ে যান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঘমাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধরমপুর গ্রামের বাদসা মিয়ার ছেলে শামসু মিয়া ও জহির মিয়ার ছেলে কুদ্দুস মিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ভাড়াটে শ্রমিকদের ব্যবহার করে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন।
স্থানীয়ভাবে কুদ্দুস মিয়াকে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কুদ্দুস মিয়ার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বুধবার নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয় গ্রামবাসীরা চারজনকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেওয়া হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে কুদ্দুস মিয়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে আটক চারজনকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আব্দুল করিম, জাহাঙ্গীর আলম, ইমন ও আলতাব আলী। তারা দোয়ারাবাজার ও পার্শ্ববর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক চারজনকে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে দুই মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি তীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীর পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি। এর ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষিনির্ভর জীবনযাত্রার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।
তাদের ভাষ্য, বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য নিয়মিত নজরদারি, অভিযান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদী ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনসহ সব ধরনের অনিয়ম ও অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদী থেকে অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে এবং রক্ষা পাবে নদীর তীর, ফসলি জমি ও পরিবেশ।












