০৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

‘বিএনপি ‘অফিস ভাঙচুর ও ল্যাপটপ চুরি মামলা : সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের -বিরুদ্ধে চার্জশিট

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০২:২০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০১ নভেম্বর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দেশের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুরে একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ল্যাপটপ ও টেলিভিশন চুরির অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। এই মামলায় তাঁকে প্রধান পরিকল্পনাকারী ও উসকানিদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ;

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ১৯ নভেম্বর মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর নূর বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ৯৯ জনকে আসামি করা হয় এবং সাবেক মন্ত্রী এম এ মান্নানকে ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি করা হয়।

 

গত ৩১ জুলাই জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে যে, এম এ মান্নানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালিয়েছেন।

 

চার্জশিটের আলোচিত দিকসমূহ;

অভিযোগপত্রে কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

•৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ল্যাপটপ চুরি।

•২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন চুরি।

 

এ ছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি, দলীয় প্রতীক এবং জাতীয় পতাকা ভাঙচুর ও পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।

 

আসামিদের বর্তমান পরিস্থিতি;

পুলিশের দাখিল করা ৯৯ জনের এই চার্জশিটের আইনি অবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

জামিনে: ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে জামিন লাভ করেছেন ৪৯ জন আসামি।

কারাগারে: বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন ২ জন—রেজাউল করিম রিজু ও আব্দুস সহীদ মেম্বার।

পলাতক: ল্যাপটপ ও টেলিভিশন চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত জামিল হোসেন ইফতিসহ ৪৮ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।

 

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া;

এম এ মান্নানের মতো হেভিওয়েট একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

তাঁর সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সুনামগঞ্জের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সামগ্রিক অগ্রগতিতে এম এ মান্নান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাঁকে জেলার জনগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে। সমর্থকদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই তাঁকে এই মামলায় জড়িয়ে প্রধান আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি সম্প্রতি এই থানায় যোগদান করেছেন। অভিযোগপত্র ও মামলার সার্বিক বিষয়গুলো ভালোভাবে পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‘বিএনপি ‘অফিস ভাঙচুর ও ল্যাপটপ চুরি মামলা : সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের -বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট সময়ঃ ০২:২০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০১ নভেম্বর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দেশের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুরে একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ল্যাপটপ ও টেলিভিশন চুরির অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। এই মামলায় তাঁকে প্রধান পরিকল্পনাকারী ও উসকানিদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ;

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ১৯ নভেম্বর মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর নূর বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ৯৯ জনকে আসামি করা হয় এবং সাবেক মন্ত্রী এম এ মান্নানকে ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি করা হয়।

 

গত ৩১ জুলাই জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে যে, এম এ মান্নানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালিয়েছেন।

 

চার্জশিটের আলোচিত দিকসমূহ;

অভিযোগপত্রে কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

•৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ল্যাপটপ চুরি।

•২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন চুরি।

 

এ ছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি, দলীয় প্রতীক এবং জাতীয় পতাকা ভাঙচুর ও পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।

 

আসামিদের বর্তমান পরিস্থিতি;

পুলিশের দাখিল করা ৯৯ জনের এই চার্জশিটের আইনি অবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

জামিনে: ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে জামিন লাভ করেছেন ৪৯ জন আসামি।

কারাগারে: বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন ২ জন—রেজাউল করিম রিজু ও আব্দুস সহীদ মেম্বার।

পলাতক: ল্যাপটপ ও টেলিভিশন চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত জামিল হোসেন ইফতিসহ ৪৮ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।

 

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া;

এম এ মান্নানের মতো হেভিওয়েট একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

তাঁর সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সুনামগঞ্জের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সামগ্রিক অগ্রগতিতে এম এ মান্নান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাঁকে জেলার জনগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে। সমর্থকদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই তাঁকে এই মামলায় জড়িয়ে প্রধান আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি সম্প্রতি এই থানায় যোগদান করেছেন। অভিযোগপত্র ও মামলার সার্বিক বিষয়গুলো ভালোভাবে পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।