সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগের পাহাড় রেখে আত্মহননঃ
সুনামগঞ্জে ট্রাভেলস ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার:
- আপডেট সময়ঃ ১১:২০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৩০ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর আবাসিক এলাকা থেকে আবুল হাসনাত সুলায়মান (৪২) নামের এক ট্রাভেলস ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সুলায়মান দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে।
জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র কোর্ট পয়েন্ট এলাকার আদিবা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় তার একটি ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে। সেখান থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
গত রবিবার রাত ৯টার দিকে ষোলঘরের বাসা থেকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ তার নিথর দেহ উদ্ধার করে।
মৃত্যুর ঘটনার প্রায় ৩ ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক আবেগঘন ও বিস্ফোরক পোস্টে জীবনের শেষ কষ্টের কথা তুলে ধরেন সুলায়মান। দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ট্রাভেলস ব্যবসায় বহু বছরের পরিশ্রমে অর্জিত প্রায় সোজা ১৯ লাখ টাকারও বেশি অর্থ বিভিন্ন মানুষের কাছে আটকে গিয়ে তিনি মারাত্মক মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন।
নিজের এই করুণ পরিণতির জন্য সরাসরি দুজনকে দায়ী করার পাশাপাশি পাওনা টাকা আদায় না হওয়া এবং সমাজে বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ ঝরে পড়েছে তার লেখায়।
নিহতের স্ট্যাটাস সূত্রে জানা যায়, সিদ্দিক আহমেদ নামের এক ব্যক্তির বোনজামাই সৌদি প্রবাসী আব্দুল কদ্দুসের ভিসা প্রসেসিং বাবদ সুলায়মানের পাওনা দাঁড়ায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। মানবিক খাতিরে পাসপোর্ট ফেরত দিলেও দীর্ঘ চার বছরে সেই পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। এমনকি স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীর সামনে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও পরবর্তীতে সুলায়মানের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সুনামগঞ্জের মতো জায়গায় ব্যবসা করে এতগুলো টাকা লোকসান দিয়ে তিনি চরম চতুর্মুখী সমস্যায় পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
পোস্টে অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের ঝিগলি গ্রামের কাওসারুজ্জামান তালুকদার।

সুলায়মান জানান, ইতালি ও সৌদি আরবের ভিসা ও প্রসেসিং কাজের জন্য কাওসারুজ্জামানকে বিভিন্ন দফায় তিনি ১৪ লাখ টাকা দেন। কাজ না করে দিয়ে কাওসারুজ্জামান নিজের ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া আইডি বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে অনেক কাকুতি-মিনতি করার পর গত রমজানের ঈদে মাত্র ২০ হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকা ফেরত না দিয়ে বছরের পর বছর ঘোরাতে থাকেন। যোগাযোগের প্রমাণ হিসেবে মেসেঞ্জারের ভয়েস বার্তাগুলো তিনি নিজের আইডিতে সংরক্ষণ করে রেখেছেন বলেও জানান।
সুলায়মান তার ফেসবুক পোস্টে আরও লেখেন, কেবল এই দুজনই নন, আরও অনেকেই তার অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যাদের বিস্তারিত নামের তালিকা তার ব্যবহৃত অপো মোবাইলের ‘Cash Book’ অ্যাপে সংরক্ষিত রয়েছে। মানুষের কাছে দেওয়া পাওনা টাকার বিচারে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সমাধান না পাওয়ার চরম হতাশা থেকেই তিনি মৃত্যুর পথ বেছে নেন বলে ইঙ্গিত রেখে গেছেন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, মরদেহের সঙ্গে পাওয়া আলামত, ফেসবুক পোস্ট ও নিহতের মোবাইলের তথ্য গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















