০৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

‎সুমী দাশের মৃত্যু: খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল সুনামগঞ্জ, মানববন্ধনে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৫৪:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জ শহরের ধোপাখালীতে গৃহবধূ সুমী দাশ চৌধুরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটছে না।

‎ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামির মধ্যে শাশুড়ি ও শ্বশুর এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে

‎বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ব্যানারে গত রোববারের বিক্ষোভ সমাবেশের পর থেকে সাধারণ মানুষের দাবি একটাই—ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচন এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার।

‎গত ৭ জানুয়ারি ধোপাখালীতে সুমীর মৃত্যুর পর তার স্বামী কিশাল শেখর দাশ গ্রেফতার হলেও, মামলার অন্য দুই মূল আসামি- শ্বশুর কুলেন্দু শেখর দাশ ও শাশুড়ি রীপা রানী দাশ এখনো গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

‎গত রোববারের প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেনকে দেওয়া স্মারকলিপিতে নারী নেত্রীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেফতারে বিলম্ব হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

‎সমাবেশে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রণজিতা রায় ও সাংগঠনিক সম্পাদক পাঞ্চালী চৌধুরী বলেন, “সুমীর মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। আমরা ধোপাখালীর মানুষের নিরাপত্তা এবং সুমীর পরিবারের জন্য সঠিক বিচার চাই।” সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পুলিশকে ৪৮ ঘণ্টার ভেতরে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

‎পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে সুমীর পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা। বাবলী রানী চৌধুরীর দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই সুমীর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।

‎এদিকে, সুমীর মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সুমীর পরিবারের অভিযোগের নানা দিক। তারা দাবি করছেন, সুমীর মৃত্যুর পেছনে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিনের অত্যাচারই মূল কারণ।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সুমীর মৃত্যুর সঠিক তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

‎এদিকে, পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। তবে, সুমীর পরিবারের সদস্যরা এবং মানবাধিকার কর্মীরা এই বিষয়ে আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।

‎সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই সুমীর জন্য ন্যায়বিচার দাবি করে পোস্ট দিচ্ছেন এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎সুমী দাশের মৃত্যু: খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল সুনামগঞ্জ, মানববন্ধনে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

আপডেট সময়ঃ ০১:৫৪:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

‎সুনামগঞ্জ শহরের ধোপাখালীতে গৃহবধূ সুমী দাশ চৌধুরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটছে না।

‎ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামির মধ্যে শাশুড়ি ও শ্বশুর এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে

‎বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ব্যানারে গত রোববারের বিক্ষোভ সমাবেশের পর থেকে সাধারণ মানুষের দাবি একটাই—ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচন এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার।

‎গত ৭ জানুয়ারি ধোপাখালীতে সুমীর মৃত্যুর পর তার স্বামী কিশাল শেখর দাশ গ্রেফতার হলেও, মামলার অন্য দুই মূল আসামি- শ্বশুর কুলেন্দু শেখর দাশ ও শাশুড়ি রীপা রানী দাশ এখনো গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

‎গত রোববারের প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেনকে দেওয়া স্মারকলিপিতে নারী নেত্রীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেফতারে বিলম্ব হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

‎সমাবেশে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রণজিতা রায় ও সাংগঠনিক সম্পাদক পাঞ্চালী চৌধুরী বলেন, “সুমীর মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। আমরা ধোপাখালীর মানুষের নিরাপত্তা এবং সুমীর পরিবারের জন্য সঠিক বিচার চাই।” সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পুলিশকে ৪৮ ঘণ্টার ভেতরে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

‎পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে সুমীর পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা। বাবলী রানী চৌধুরীর দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই সুমীর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।

‎এদিকে, সুমীর মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সুমীর পরিবারের অভিযোগের নানা দিক। তারা দাবি করছেন, সুমীর মৃত্যুর পেছনে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিনের অত্যাচারই মূল কারণ।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সুমীর মৃত্যুর সঠিক তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

‎এদিকে, পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। তবে, সুমীর পরিবারের সদস্যরা এবং মানবাধিকার কর্মীরা এই বিষয়ে আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।

‎সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই সুমীর জন্য ন্যায়বিচার দাবি করে পোস্ট দিচ্ছেন এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছেন।