১০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সুনামগঞ্জে এলজিইডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করায় অভিযোগকারীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / ২২৯ বার পড়া হয়েছে।

‎এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন-এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, ঘুষ লেনদেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) করা অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় এক ব্যক্তিকে সুরমা নদীতে ফেলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

‎​এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শহরের পূর্ব তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো: মোছাদ্দেক আলী গত ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সুনামগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ)-এর নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যার অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিলেট বিভাগসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

‎​

‎​অভিযোগপত্রে মোছাদ্দেক আলী উল্লেখ করেন যে, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন যোগদানের পর থেকেই ঘুষ, দুর্নীতি ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অর্থ উপার্জন করছেন এবং তাঁর ও তাঁর অধীনস্থ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

‎​মোছাদ্দেক আলী জানান, দুর্নীতির বিষয়ে তিনি পূর্বে দুদকে অভিযোগ করেছিলেন। সেই সূত্রে গত ৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁকে অফিসে ডেকে পাঠান। সেখানে অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে তাঁকে পিটিয়ে পুলিশে দেওয়া হবে এবং সরাসরি সুরমা নদীতে ফেলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

‎​

‎​মো: মোছাদ্দেক আলী স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি বিজ্ঞ আদালতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের নিকট এই অভিযোগ দায়ের করেন। ​তবে, মামলার আদেশের (স্মারক নং- ৩৫২/২০২৫) সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী মো: মোছাদ্দেক আলী-কে তাঁর অভিযোগের বিপরীতে একটি নতুন মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিয়ে নথির কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

‎​১৬/০৯/২০২৫ তারিখের আদেশে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) উল্লেখ করেন, “উপস্থিত অভিযোগকারীর সাথে আলোচনা হয়। যথোপযোগী (নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন)-এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতীয়মান হয় যে যথোপযোগী মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধী বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে সম্মত নন।”

‎​অতএব, “এমতাবস্থায়, দরখাস্তকারীকে বিরোধী বিষয়ে দায়েরের পরামর্শ প্রদানে নথির কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হলো।”

‎​অভিযোগ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান “সে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে বলে আমি ডেকে জিজ্ঞেস করেছি কেন অভিযোগ করেছে। আমি শুধু ধমক দিয়েছি, ভয়ভীতি বা অন্য কিছু করিনি।”

‎​অন্যদিকে, অভিযোগকারী মোছাদ্দেক আলী জানান, “ইঞ্জিনিয়ার স্যার আমাকে বলেন, দেশে এত মানুষ থাকতে তুমি কেনো দুর্নীতি দমন করতে আসছো? তোমার এত বড় সাহস কে দিয়েছে? এই বলে স্যার আমাকে হুমকি-ধমকি দেন।”

‎​বাদী মোছাদ্দেক আলী নির্বাহী প্রকৌশলী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন, যাতে এলজিইডি অফিসে চলমান দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুনামগঞ্জে এলজিইডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করায় অভিযোগকারীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

‎এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন-এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, ঘুষ লেনদেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) করা অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় এক ব্যক্তিকে সুরমা নদীতে ফেলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

‎​এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শহরের পূর্ব তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো: মোছাদ্দেক আলী গত ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সুনামগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ)-এর নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যার অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিলেট বিভাগসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

‎​

‎​অভিযোগপত্রে মোছাদ্দেক আলী উল্লেখ করেন যে, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন যোগদানের পর থেকেই ঘুষ, দুর্নীতি ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অর্থ উপার্জন করছেন এবং তাঁর ও তাঁর অধীনস্থ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

‎​মোছাদ্দেক আলী জানান, দুর্নীতির বিষয়ে তিনি পূর্বে দুদকে অভিযোগ করেছিলেন। সেই সূত্রে গত ৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁকে অফিসে ডেকে পাঠান। সেখানে অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে তাঁকে পিটিয়ে পুলিশে দেওয়া হবে এবং সরাসরি সুরমা নদীতে ফেলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

‎​

‎​মো: মোছাদ্দেক আলী স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি বিজ্ঞ আদালতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের নিকট এই অভিযোগ দায়ের করেন। ​তবে, মামলার আদেশের (স্মারক নং- ৩৫২/২০২৫) সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী মো: মোছাদ্দেক আলী-কে তাঁর অভিযোগের বিপরীতে একটি নতুন মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিয়ে নথির কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

‎​১৬/০৯/২০২৫ তারিখের আদেশে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) উল্লেখ করেন, “উপস্থিত অভিযোগকারীর সাথে আলোচনা হয়। যথোপযোগী (নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন)-এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতীয়মান হয় যে যথোপযোগী মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধী বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে সম্মত নন।”

‎​অতএব, “এমতাবস্থায়, দরখাস্তকারীকে বিরোধী বিষয়ে দায়েরের পরামর্শ প্রদানে নথির কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হলো।”

‎​অভিযোগ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান “সে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে বলে আমি ডেকে জিজ্ঞেস করেছি কেন অভিযোগ করেছে। আমি শুধু ধমক দিয়েছি, ভয়ভীতি বা অন্য কিছু করিনি।”

‎​অন্যদিকে, অভিযোগকারী মোছাদ্দেক আলী জানান, “ইঞ্জিনিয়ার স্যার আমাকে বলেন, দেশে এত মানুষ থাকতে তুমি কেনো দুর্নীতি দমন করতে আসছো? তোমার এত বড় সাহস কে দিয়েছে? এই বলে স্যার আমাকে হুমকি-ধমকি দেন।”

‎​বাদী মোছাদ্দেক আলী নির্বাহী প্রকৌশলী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন, যাতে এলজিইডি অফিসে চলমান দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হয়।