০৭:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মন্তব্য প্রতিবেদনঃ তৃতীয় নয়নে রাজনীতি দর্শন

মতামত
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:১১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৭৫ বার পড়া হয়েছে।

 সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ;

বিএনপির নমিনেশন ঘোষণার দীর্ঘসুত্রিতা;  বাস্তবতা বিবর্জিত নাকি বাস্তবসম্মত?

প্রার্থী সিলেকশন পদ্ধতির ধরন; কৌশলী নাকি কান্ডজ্ঞানহীন আচরণ?

 

একটা বিষয় মাথায় ধরেনা;আচ্ছা বিএনপিতো পরীক্ষাতেই আছে  বিগত সতেরো বছর থেকে এখন পর্য্যন্ত, সেই হিসাবে প্রতিটি নেতাকর্মীর আমলনামা সংরক্ষিত থাকাটাই তো যুক্তিযুক্ত?

 

সেই সাথে প্রতি আসনের বিপরীতে একাধিক  প্রার্থী  থাকার কথা নির্ধারিত,কিন্তু ওমা একি দেখছি, ৫ আগষ্টের পরে যখন নির্বাচন হবে নিশ্চিত হয়ে গেলেন অতএব পরবর্তীত পরিস্থিতিতে প্রার্থী ঘোষিত হওয়ার কথা ছিলো দ্রুত কিন্তু তা না করে সতেরো বছর পরে, দিলেন টেম্পার আইমিন ইলেকশনের প্রয়োজনে কাজ করার অদ্ভুত একটা অর্ডার করলেন ফলশ্রুতিতে প্রত্যেক প্রার্থী নিজের পাল্লা ভাড়ি করতে হয়ে গেলো ব্যস্ত ফলশ্রুতিতে স্বৈরাচারের দোসর চাঁদাবাজ চাটুকার দলে পুনর্বাসিত হতে শুরু করলো;এতে করে দলের প্রকৃত নেতারা উপেক্ষিত?বলি এই ক্ষতি কি কেন্দ্রীয় ব্যর্থতা কিংবা অদুরদর্শিতা নয়?

 

বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন ইহা ঐতিহাসিক সত্য ৫ আগষ্টের পটপরিবর্তন পরবর্তী আওয়ামিলীগ বিহীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি হয়ে উঠলো অদ্বিতীয় ইহাও সত্য, সুদীর্ঘ ষোলো বছরের ব্যর্থতার গ্লানি, গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতিতে তাই তারা স্টিয়ারিং হাতে পায়নি অর্থাৎ দেওয়া হয়নি ইহাও সত্য.

 

নেতৃত্ব কর্তৃত্ব না থাকলে সবাই ছিলো ভীষন ভীত

কেননা পরবর্তী ইলেকশনে ভূমিধ্বস বিজয় হবে ইহা ছিলো সর্বজন বিদীত! ইহাও সত্য!

 

দ্বিতীয় স্বাধীনতার বছর পুর্তিতে,রাজনীতিতে  বিএনপির গুরুত্ব হয়ে গেলো আরও স্লথ, সাংগঠনিক অদক্ষতা সিদ্ধান্ত গ্রহনে ছিলোনা কোনো দূরদর্শিতা এমনই সব ব্যর্থতার কারনে সাধারণ ভোটারদের সমর্থনে হয়েছিল দ্বিধাগ্রস্ত তারপরও বিএনপির যে ভোট ছিলো বাকী সকল দলে মিলে তার অর্ধেক হবেনা হয়তো;তাই সকলে ভয় পেতো ইহাও সত্য ;

 

 

কিন্তু ৫ আগষ্ট পরবর্তী

গর্ত থেকে বের হয়ে আসা জিয়ার সেনারা মুক্ত বাতাসে মিশে যাওয়ার বদলে, বৈধ-অবৈধ সবকিছু নিমিষে গ্রোগাসে খেয়ে ফেলার মানসে সারা বাংলাদেশে এমন একটা পরিবেশের আবির্ভাব ঘটালো ;

 

যার ফলশ্রুতিতে পুরো সংগঠন তার মাশুল দিতে শুরু করলো,বিএনপি গৃহীত প্রতিটি সুন্দর পরিকল্পনা কুৎসিত রুপে আবির্ভুত হলো, এইসব কাজে প্রশাসন সহ সকল যন্ত্র সহায়তা প্রদান করতে লাগলো, এই দূর্গন্ধ বাতাসে ছড়ালো,যদিও সবকিছু করেছে  সকলে মিলে কিন্তু  পুরোপুরি দায়ভার বিএনপির গলে,আওয়ামিলীগ চলে যাওয়ার ফলে সকল ধান্ধাবাজিতে বিএনপি নিয়ন্ত্রণ নিলো উক্ত ধান্ধাবাজির ভাগবাটোয়ারাই দলের জন্য কাল হলো; রুপ নিলো অন্তর দ্বন্দ্বে, শুরু হলো বিভাজন,

 

৫ আগষ্টের পূর্বে ব্যর্থতার ইতিহাস থাকলেও সংগঠন একসাথে করতো আন্দোলন, ভাগবাটোয়ারা থেকে তৈরী বিভাজন, সর্বশেষ সম্মেলন সম্পাদনের মাধ্যমে ঐক্যের পরিবর্তে বিভাজনের  চুড়ান্ত রুপ ধারন!

 

ইতিপূর্বে সংঘটিত ইলেকশন যেগুলোতে বিএনপি করেছে সরকার গঠন কিংবা বিরোধী দলের আসন,তখনকার সময়ে ;

 

এক সরকারের পরে অন্য সরকার দিতো ইলেকশন মধ্যে সময় থাকতো অনধিক তিন মাসের মতন,যে কারণে বিভাজন হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় ছিলনা তখন ছোটো-ছোটো যা ছিলো সহজেই মিলানো যেতো কিন্তু এইবারের ক্ষত দীর্ঘদিনের প্রতিটি ক্ষত হয়ে গেছে ইনফেকশনের মতো,

চিকিৎসা হয়নি সময়মতো তাই সুস্থতা হওয়ার সম্ভাবণা নাই অতো!

হইলেও সেটা অনেক ব্যয়বহুল আর নয় এতো দ্রুত!

 

 

বিএনপির এই দীর্ঘ সুত্রিতার কারন খুজতে গিয়ে যে প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হবে প্রতিনিয়ত; চিন্তিত কন্ঠে আক্ষেপের সুরে বলে উঠবে ; তাহলে সবকিছু কি ইচ্ছাকৃত? কিংবা উদ্দেশ্য প্রনোদিত?  আবার সমালোচনার মুখমুখি হতে ভয় পান বলে অন্যের ঘাঢ়ে চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায়  লিপ্ত কিন্তু তাতে সফল নয় ব্যর্থ!

 

উপসংহারে এসে যে কথা বলে শেষ করতে চাই,

প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী ঘোষণার কোনো বিকল্প নাই, যদিও ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে তবুও একেবারে নষ্ট হয়ে যায়নি, ইলেকশনের আর ৪ মাস আছে সম্ভবত, ডিসেম্বরে তফসিল হবে ঘোষিত, তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে নামতে হবে প্রচার প্রচারনায় আভ্যন্তরীন বিরোধ থেকে যাবে অন্ধকারে আসবেনা আলোচনায়,

 

এরপরে  ভাবিলে আর কি হবে প্রশ্ন রেখে গেলাম আলোচনায়  !!!

 

লেখক, কলামিস্ট, সাংবাদিক।

২৩.১০.২৫

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

মন্তব্য প্রতিবেদনঃ তৃতীয় নয়নে রাজনীতি দর্শন

আপডেট সময়ঃ ০৯:১১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

 সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ;

বিএনপির নমিনেশন ঘোষণার দীর্ঘসুত্রিতা;  বাস্তবতা বিবর্জিত নাকি বাস্তবসম্মত?

প্রার্থী সিলেকশন পদ্ধতির ধরন; কৌশলী নাকি কান্ডজ্ঞানহীন আচরণ?

 

একটা বিষয় মাথায় ধরেনা;আচ্ছা বিএনপিতো পরীক্ষাতেই আছে  বিগত সতেরো বছর থেকে এখন পর্য্যন্ত, সেই হিসাবে প্রতিটি নেতাকর্মীর আমলনামা সংরক্ষিত থাকাটাই তো যুক্তিযুক্ত?

 

সেই সাথে প্রতি আসনের বিপরীতে একাধিক  প্রার্থী  থাকার কথা নির্ধারিত,কিন্তু ওমা একি দেখছি, ৫ আগষ্টের পরে যখন নির্বাচন হবে নিশ্চিত হয়ে গেলেন অতএব পরবর্তীত পরিস্থিতিতে প্রার্থী ঘোষিত হওয়ার কথা ছিলো দ্রুত কিন্তু তা না করে সতেরো বছর পরে, দিলেন টেম্পার আইমিন ইলেকশনের প্রয়োজনে কাজ করার অদ্ভুত একটা অর্ডার করলেন ফলশ্রুতিতে প্রত্যেক প্রার্থী নিজের পাল্লা ভাড়ি করতে হয়ে গেলো ব্যস্ত ফলশ্রুতিতে স্বৈরাচারের দোসর চাঁদাবাজ চাটুকার দলে পুনর্বাসিত হতে শুরু করলো;এতে করে দলের প্রকৃত নেতারা উপেক্ষিত?বলি এই ক্ষতি কি কেন্দ্রীয় ব্যর্থতা কিংবা অদুরদর্শিতা নয়?

 

বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন ইহা ঐতিহাসিক সত্য ৫ আগষ্টের পটপরিবর্তন পরবর্তী আওয়ামিলীগ বিহীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি হয়ে উঠলো অদ্বিতীয় ইহাও সত্য, সুদীর্ঘ ষোলো বছরের ব্যর্থতার গ্লানি, গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতিতে তাই তারা স্টিয়ারিং হাতে পায়নি অর্থাৎ দেওয়া হয়নি ইহাও সত্য.

 

নেতৃত্ব কর্তৃত্ব না থাকলে সবাই ছিলো ভীষন ভীত

কেননা পরবর্তী ইলেকশনে ভূমিধ্বস বিজয় হবে ইহা ছিলো সর্বজন বিদীত! ইহাও সত্য!

 

দ্বিতীয় স্বাধীনতার বছর পুর্তিতে,রাজনীতিতে  বিএনপির গুরুত্ব হয়ে গেলো আরও স্লথ, সাংগঠনিক অদক্ষতা সিদ্ধান্ত গ্রহনে ছিলোনা কোনো দূরদর্শিতা এমনই সব ব্যর্থতার কারনে সাধারণ ভোটারদের সমর্থনে হয়েছিল দ্বিধাগ্রস্ত তারপরও বিএনপির যে ভোট ছিলো বাকী সকল দলে মিলে তার অর্ধেক হবেনা হয়তো;তাই সকলে ভয় পেতো ইহাও সত্য ;

 

 

কিন্তু ৫ আগষ্ট পরবর্তী

গর্ত থেকে বের হয়ে আসা জিয়ার সেনারা মুক্ত বাতাসে মিশে যাওয়ার বদলে, বৈধ-অবৈধ সবকিছু নিমিষে গ্রোগাসে খেয়ে ফেলার মানসে সারা বাংলাদেশে এমন একটা পরিবেশের আবির্ভাব ঘটালো ;

 

যার ফলশ্রুতিতে পুরো সংগঠন তার মাশুল দিতে শুরু করলো,বিএনপি গৃহীত প্রতিটি সুন্দর পরিকল্পনা কুৎসিত রুপে আবির্ভুত হলো, এইসব কাজে প্রশাসন সহ সকল যন্ত্র সহায়তা প্রদান করতে লাগলো, এই দূর্গন্ধ বাতাসে ছড়ালো,যদিও সবকিছু করেছে  সকলে মিলে কিন্তু  পুরোপুরি দায়ভার বিএনপির গলে,আওয়ামিলীগ চলে যাওয়ার ফলে সকল ধান্ধাবাজিতে বিএনপি নিয়ন্ত্রণ নিলো উক্ত ধান্ধাবাজির ভাগবাটোয়ারাই দলের জন্য কাল হলো; রুপ নিলো অন্তর দ্বন্দ্বে, শুরু হলো বিভাজন,

 

৫ আগষ্টের পূর্বে ব্যর্থতার ইতিহাস থাকলেও সংগঠন একসাথে করতো আন্দোলন, ভাগবাটোয়ারা থেকে তৈরী বিভাজন, সর্বশেষ সম্মেলন সম্পাদনের মাধ্যমে ঐক্যের পরিবর্তে বিভাজনের  চুড়ান্ত রুপ ধারন!

 

ইতিপূর্বে সংঘটিত ইলেকশন যেগুলোতে বিএনপি করেছে সরকার গঠন কিংবা বিরোধী দলের আসন,তখনকার সময়ে ;

 

এক সরকারের পরে অন্য সরকার দিতো ইলেকশন মধ্যে সময় থাকতো অনধিক তিন মাসের মতন,যে কারণে বিভাজন হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় ছিলনা তখন ছোটো-ছোটো যা ছিলো সহজেই মিলানো যেতো কিন্তু এইবারের ক্ষত দীর্ঘদিনের প্রতিটি ক্ষত হয়ে গেছে ইনফেকশনের মতো,

চিকিৎসা হয়নি সময়মতো তাই সুস্থতা হওয়ার সম্ভাবণা নাই অতো!

হইলেও সেটা অনেক ব্যয়বহুল আর নয় এতো দ্রুত!

 

 

বিএনপির এই দীর্ঘ সুত্রিতার কারন খুজতে গিয়ে যে প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হবে প্রতিনিয়ত; চিন্তিত কন্ঠে আক্ষেপের সুরে বলে উঠবে ; তাহলে সবকিছু কি ইচ্ছাকৃত? কিংবা উদ্দেশ্য প্রনোদিত?  আবার সমালোচনার মুখমুখি হতে ভয় পান বলে অন্যের ঘাঢ়ে চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায়  লিপ্ত কিন্তু তাতে সফল নয় ব্যর্থ!

 

উপসংহারে এসে যে কথা বলে শেষ করতে চাই,

প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী ঘোষণার কোনো বিকল্প নাই, যদিও ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে তবুও একেবারে নষ্ট হয়ে যায়নি, ইলেকশনের আর ৪ মাস আছে সম্ভবত, ডিসেম্বরে তফসিল হবে ঘোষিত, তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে নামতে হবে প্রচার প্রচারনায় আভ্যন্তরীন বিরোধ থেকে যাবে অন্ধকারে আসবেনা আলোচনায়,

 

এরপরে  ভাবিলে আর কি হবে প্রশ্ন রেখে গেলাম আলোচনায়  !!!

 

লেখক, কলামিস্ট, সাংবাদিক।

২৩.১০.২৫