১০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরছেন ২৫ ডিসেম্বর

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১০:২২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৫৬ বার পড়া হয়েছে।

‎আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‎মির্জা ফখরুল বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে এসে পৌঁছাবেন। দলের পক্ষ থেকে তাঁকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

‎তারেক রহমান ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। এর পর থেকে তিনি সে দেশেই আছেন।

‎ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তারেক রহমানের সাজার রায় বাতিল এবং কোনো কোনো মামলায় আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পান। এর পর থেকে তাঁর দেশে ফেরার আলোচনা শুরু হয়। তারেক রহমান শিগগিরই ফিরবেন—এমন কথা বিএনপি নেতারা কয়েক মাস ধরেই বলে আসছেন। তবে কেউ সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ বলেননি।

‎বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠলে ধারণা করা হচ্ছিল তারেক রহমান দ্রুতই দেশে ফিরছেন। এই প্রেক্ষাপটে লন্ডন থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’

‎ওই পোস্টে তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘স্পর্শকাতর বিষয়টির বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এ পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়ামাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’

‎এরপর সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারবার বলা হয়েছে, তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই।

‎বিএনপির নেতারা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা আশা করছেন, তার দেশে ফেরার মাধ্যমে দলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। দলের কর্মীরা ইতিমধ্যে তার আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তারেক রহমানের স্বাগত জানিয়ে পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো হচ্ছে।

‎এদিকে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরে দলের সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। তারা বিশ্বাস করেন, তার উপস্থিতি দলের নেতৃত্বে নতুন গতি আনবে এবং রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে। বিএনপির নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

‎অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তারা বলছেন, তার উপস্থিতি রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

‎এমন পরিস্থিতিতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সবাই তার আগমনের দিনটির অপেক্ষায় রয়েছে।

 

 

 

 

তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরছেন ২৫ ডিসেম্বর

আপডেট সময়ঃ ১০:২২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

‎আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‎মির্জা ফখরুল বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে এসে পৌঁছাবেন। দলের পক্ষ থেকে তাঁকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

‎তারেক রহমান ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। এর পর থেকে তিনি সে দেশেই আছেন।

‎ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তারেক রহমানের সাজার রায় বাতিল এবং কোনো কোনো মামলায় আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পান। এর পর থেকে তাঁর দেশে ফেরার আলোচনা শুরু হয়। তারেক রহমান শিগগিরই ফিরবেন—এমন কথা বিএনপি নেতারা কয়েক মাস ধরেই বলে আসছেন। তবে কেউ সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ বলেননি।

‎বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠলে ধারণা করা হচ্ছিল তারেক রহমান দ্রুতই দেশে ফিরছেন। এই প্রেক্ষাপটে লন্ডন থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’

‎ওই পোস্টে তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘স্পর্শকাতর বিষয়টির বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এ পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়ামাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’

‎এরপর সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারবার বলা হয়েছে, তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই।

‎বিএনপির নেতারা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা আশা করছেন, তার দেশে ফেরার মাধ্যমে দলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। দলের কর্মীরা ইতিমধ্যে তার আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তারেক রহমানের স্বাগত জানিয়ে পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো হচ্ছে।

‎এদিকে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরে দলের সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। তারা বিশ্বাস করেন, তার উপস্থিতি দলের নেতৃত্বে নতুন গতি আনবে এবং রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে। বিএনপির নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

‎অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তারা বলছেন, তার উপস্থিতি রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

‎এমন পরিস্থিতিতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সবাই তার আগমনের দিনটির অপেক্ষায় রয়েছে।

 

 

 

 

তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো