১২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকারঃ

ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:০১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • / ৫৩ বার পড়া হয়েছে।

দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনভোগান্তি দূর করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। 

তিনি জানিয়েছেন, উন্নত বিশ্বের আদলে বাংলাদেশেও ভূমি সেবায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে আর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হবে না।

 

‎গতকাল শুক্রবার (১ মার্চ) রাজশাহী মহানগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু এদিন দিনভর নিজ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও গণসংযোগ করেন।

 

‎হয়রানি নিরসনে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’–

‎ভূমিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের ভূমি সেবার নাম শুনলেই মানুষের চোখে হয়রানির চিত্র ভেসে ওঠে। এই ধারণা আমরা পাল্টে দিতে চাই। প্রস্তাবিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার এমন একটি ব্যবস্থা হবে যেখানে একজন নাগরিক তাঁর জমি সংক্রান্ত সমস্যা বা আবেদন নিয়ে আসবেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেখান থেকেই চূড়ান্ত সমাধান পাবেন।”

 

‎তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, বর্তমানে একটি সাধারণ নামজারি (মিউটেশন) বা খতিয়ানের কাজের জন্য সেবাপ্রার্থীকে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি ধাপ পার হতে হয়। এই জটিল প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়েই একটি অসাধু চক্র বা দালাল শ্রেণি সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো স্থান থাকবে না।

‎মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “আমরা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছি না, বরং প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনছি। একটি সমন্বিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমে সারাদেশের ভূমি অফিসগুলোতে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সুপরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি।”

 

‎ব্রিটিশ আমলের আইনের সংস্কারঃ

‎ভূমি আইনের আধুনিকায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় বর্তমানে যেসব আইন ও বিধিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, তার অনেকগুলোই বেশ পুরনো।

তিনি বলেন, “ভূমি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। বর্তমান আইনের আলোকেই আমরা কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছি। তবে সময়ের প্রয়োজনে এবং মানুষের ভোগান্তি কমাতে কিছু প্রচলিত আইনের সংশোধনী আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা ইতিমধ্যে আইনগুলো পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছি।”

‎তৃণমূলের সাথে সংযোগঃ

‎মতবিনিময় সভার আগে সকাল থেকেই মন্ত্রী রাজশাহীর বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনার পর তিনি কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‎সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভূমিমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে দেশের জমি কেনা-বেচা, রেকর্ড সংশোধন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির অধিকার প্রতিষ্ঠা অনেক সহজ হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

‎তথ্যসহায়তাঃসমকাল

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকারঃ

ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর

আপডেট সময়ঃ ০৯:০১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনভোগান্তি দূর করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। 

তিনি জানিয়েছেন, উন্নত বিশ্বের আদলে বাংলাদেশেও ভূমি সেবায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে আর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হবে না।

 

‎গতকাল শুক্রবার (১ মার্চ) রাজশাহী মহানগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু এদিন দিনভর নিজ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও গণসংযোগ করেন।

 

‎হয়রানি নিরসনে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’–

‎ভূমিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের ভূমি সেবার নাম শুনলেই মানুষের চোখে হয়রানির চিত্র ভেসে ওঠে। এই ধারণা আমরা পাল্টে দিতে চাই। প্রস্তাবিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার এমন একটি ব্যবস্থা হবে যেখানে একজন নাগরিক তাঁর জমি সংক্রান্ত সমস্যা বা আবেদন নিয়ে আসবেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেখান থেকেই চূড়ান্ত সমাধান পাবেন।”

 

‎তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, বর্তমানে একটি সাধারণ নামজারি (মিউটেশন) বা খতিয়ানের কাজের জন্য সেবাপ্রার্থীকে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি ধাপ পার হতে হয়। এই জটিল প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়েই একটি অসাধু চক্র বা দালাল শ্রেণি সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো স্থান থাকবে না।

‎মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “আমরা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছি না, বরং প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনছি। একটি সমন্বিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমে সারাদেশের ভূমি অফিসগুলোতে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সুপরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি।”

 

‎ব্রিটিশ আমলের আইনের সংস্কারঃ

‎ভূমি আইনের আধুনিকায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় বর্তমানে যেসব আইন ও বিধিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, তার অনেকগুলোই বেশ পুরনো।

তিনি বলেন, “ভূমি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। বর্তমান আইনের আলোকেই আমরা কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছি। তবে সময়ের প্রয়োজনে এবং মানুষের ভোগান্তি কমাতে কিছু প্রচলিত আইনের সংশোধনী আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা ইতিমধ্যে আইনগুলো পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছি।”

‎তৃণমূলের সাথে সংযোগঃ

‎মতবিনিময় সভার আগে সকাল থেকেই মন্ত্রী রাজশাহীর বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনার পর তিনি কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‎সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভূমিমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে দেশের জমি কেনা-বেচা, রেকর্ড সংশোধন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির অধিকার প্রতিষ্ঠা অনেক সহজ হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

‎তথ্যসহায়তাঃসমকাল