দোকান-মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়
অফিস-মার্কেট ও জনজীবনে নতুন নিয়ম, লক্ষ্য জ্বালানি নিরাপত্তা
- আপডেট সময়ঃ ১২:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের অস্থিরতা মোকাবিলায় একগুচ্ছ কঠোর ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রাহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মূলত বৈশ্বিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতেই এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সরকারের এসব সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (ছালেহ শিবলী) উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের সরকারি ও বেসরকারি সকল অফিসের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
ব্যাংকিং খাতের জন্য বিশেষ সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে লেনদেনের জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। তবে লেনদেন পরবর্তী দাপ্তরিক কাজ গোছানোর জন্য ব্যাংক কর্মকর্তারা বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন এবং ঠিক ৪টাতেই ব্যাংক ভবন বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যা নামলেই বন্ধ হবে শপিংমলঃ
বিদ্যুতের বাড়তি চাপ কমাতে দেশের সকল শপিংমল ও বাণিজ্যিক বিপণিবিতানগুলোর জন্য কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের কোনো মার্কেট বা শপিংমল খোলা রাখা যাবে না।
তবে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদার কথা মাথায় রেখে জরুরি সেবাসমূহ যেমন—ওষুধের দোকান, কাঁচাবাজার এবং খাবারের দোকানসমূহকে এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমাতে আগামী তিন মাসের জন্য একগুচ্ছ ‘সাশ্রয়ী’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই তিন মাস রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে কোনো নতুন যানবাহন কেনা হবে না। এর মধ্যে সড়কপথের গাড়ি, জলযান এমনকি আকাশযানও অন্তর্ভুক্ত। একইসাথে সরকারি দপ্তরের জন্য কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা অন্য কোনো নতুন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ক্রয়ও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত:
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে সকল ধরনের বিদেশ ভ্রমণ এবং বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের বাজেট ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া সভা-সেমিনার বা ওয়ার্কশপের পেছনে ব্যয়ও বর্তমানের তুলনায় অর্ধেক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারের বরাদ্দকৃত বাজেট থেকে অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যয় সাশ্রয় করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ বা টিএ/ডিএ বাবদ খরচও ৩০ শতাংশ কমানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবহন খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের আভাস দিয়ে সচিব জানান, স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।
যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে ইলেকট্রিক বাস আমদানি করে, তবে তারা সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত (Zero Duty) সুবিধা পাবে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্যও এই সুবিধা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, তবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। উল্লেখ্য যে, পরিবেশ রক্ষায় কোনো ধরনের ‘রিকন্ডিশন’ বা পুরনো বাস আমদানির সুযোগ থাকছে না; কেবল নতুন বাসই আনা যাবে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। আগামী রোববার থেকে ধাপে ধাপে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করবে। লক্ষ্য একটাই—যাতে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর না পড়ে।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সরকার কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প বাজার খুঁজছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে জ্বালানি আমদানির চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সরকারের এই সময়োচিত পদক্ষেপগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসহায়তাঃবাসস











