সালিস থেকে ফিরতেই অন্ধকার পথে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, রক্ষা পেল না ছোট ভাইও
- আপডেট সময়ঃ ১২:২৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
- / ৩ বার পড়া হয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি সালিস বৈঠক থেকে বাড়ি ফেরার পথে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন জোবায়ের হোসেন রাকিব (২৩) নামের এক তরুণ।
শনিবার রাতে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকায় ওত পেতে থাকা একদল হামলাকারী তাঁর ওপর এই বর্বর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাকিব ওই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে। তিনি ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই রিমনও হামলার শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কয়েক দিন আগে পাকমুন্সিরহাট বাজারে। সেখানে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে এক স্থানীয় দোকানদারের কথা কাটাকাটি হয়। এই বিরোধ মেটানোর উদ্দেশ্যে শনিবার রাতে বাজারে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠক চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় ব্যক্তিরা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাকিবকে সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
বড়দের পরামর্শ মেনে রাকিব তাঁর ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে ওই রাতেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তবে বিপত্তি ঘটে বাড়ির ফেরার পথে।
অন্ধকার একটি নির্জন স্থানে পৌঁছামাত্র একদল দুর্বৃত্ত তাঁদের পথরোধ করে আচমকা হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে রাকিবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। ভাইয়ের ওপর এমন নৃশংস হামলা দেখে রিমন তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁকেও রেহাই দেয়নি এবং তাঁর ওপরও চড়াও হয়।
একপর্যায়ে রিমনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনায় জড়িতদের নাম কিংবা পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।




















