০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
সম্পাদকীয় টীকা

বিচারের আগেই চামড়া তুলে নেওয়ার স্লোগান—এ কেমন ন্যায়বিচার?

সম্পাদকীয় টীকা.!
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:১৩:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৩৯ বার পড়া হয়েছে।

 

বিচারের আগেই চামড়া তুলে নেওয়ার স্লোগান—এ কেমন ন্যায়বিচার?

 

সম্পাদকীয় টীকা;

বিস্তারিত:⏬

 

একজন ঠিকাদার একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে দরখাস্ত দিয়েছেন। অভিযোগটি সত্য, মিথ্যা নাকি ষড়যন্ত্রমূলক—তা নির্ধারণ করবে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আদালত; কোনো পক্ষের স্লোগান নয়।

 

সংসদ সদস্য যদি নির্দোষ হন, তবে তাঁর আইনের আশ্রয় নেওয়া অবশ্যই ন্যায়সংগত। কিন্তু অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হওয়ার আগেই শত শত কর্মী-সমর্থক সত্য যাচাই না করে ‘ঠিকাদারের চামড়া তুলে নেব’ বলে স্লোগান দিলে, তা কি ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা, নাকি ভিন্নমতকে ভয় দেখানোর অপচেষ্টা?

 

পবিত্র কোরআন ঘোষণা করে, “তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ে দিও না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।” (সুরা আল-বাকারা, ২:৪২)। আবার আল্লাহ ন্যায়বিচারে অবিচল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন (সুরা আন-নিসা, ৪:১৩৫)।

 

অতএব, অভিযোগকারী মিথ্যা বলে থাকলে আইন তাঁকে বিচারের আওতায় আনবে; আর অভিযোগ সত্য হলে অভিযোগকারীর কণ্ঠরোধ করে সত্যকে চাপা দেওয়ার অধিকার কারও নেই। তদন্তের আগেই অভিযোগকারীকে অপরাধী বানানো এবং তাঁর চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া কোনো সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না।

 

মনে রাখতে হবে, নেতার প্রতি আনুগত্য সত্যের বিকল্প নয়, আর স্লোগানের উচ্চতা কখনো প্রমাণের শক্তি হতে পারে না। সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা নয়—আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার।

 

হকবার্তার অঙ্গীকার—শুধু খবর প্রচার নয়, সত্যের উপসংহারে পৌঁছানোর চেষ্টা।

 

সম্পাদক, ‘দৈনিক হক বার্তা’ (অন্তরালের খবর),

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সম্পাদকীয় টীকা

বিচারের আগেই চামড়া তুলে নেওয়ার স্লোগান—এ কেমন ন্যায়বিচার?

আপডেট সময়ঃ ০৯:১৩:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

 

বিচারের আগেই চামড়া তুলে নেওয়ার স্লোগান—এ কেমন ন্যায়বিচার?

 

সম্পাদকীয় টীকা;

বিস্তারিত:⏬

 

একজন ঠিকাদার একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে দরখাস্ত দিয়েছেন। অভিযোগটি সত্য, মিথ্যা নাকি ষড়যন্ত্রমূলক—তা নির্ধারণ করবে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আদালত; কোনো পক্ষের স্লোগান নয়।

 

সংসদ সদস্য যদি নির্দোষ হন, তবে তাঁর আইনের আশ্রয় নেওয়া অবশ্যই ন্যায়সংগত। কিন্তু অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হওয়ার আগেই শত শত কর্মী-সমর্থক সত্য যাচাই না করে ‘ঠিকাদারের চামড়া তুলে নেব’ বলে স্লোগান দিলে, তা কি ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা, নাকি ভিন্নমতকে ভয় দেখানোর অপচেষ্টা?

 

পবিত্র কোরআন ঘোষণা করে, “তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ে দিও না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।” (সুরা আল-বাকারা, ২:৪২)। আবার আল্লাহ ন্যায়বিচারে অবিচল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন (সুরা আন-নিসা, ৪:১৩৫)।

 

অতএব, অভিযোগকারী মিথ্যা বলে থাকলে আইন তাঁকে বিচারের আওতায় আনবে; আর অভিযোগ সত্য হলে অভিযোগকারীর কণ্ঠরোধ করে সত্যকে চাপা দেওয়ার অধিকার কারও নেই। তদন্তের আগেই অভিযোগকারীকে অপরাধী বানানো এবং তাঁর চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া কোনো সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না।

 

মনে রাখতে হবে, নেতার প্রতি আনুগত্য সত্যের বিকল্প নয়, আর স্লোগানের উচ্চতা কখনো প্রমাণের শক্তি হতে পারে না। সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা নয়—আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার।

 

হকবার্তার অঙ্গীকার—শুধু খবর প্রচার নয়, সত্যের উপসংহারে পৌঁছানোর চেষ্টা।

 

সম্পাদক, ‘দৈনিক হক বার্তা’ (অন্তরালের খবর),