রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ ও শ্রমিকের বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে আগুন; ২ ঘণ্টা বন্ধ ৩ মেট্রো স্টেশন;
- আপডেট সময়ঃ ০৩:৪২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ০১ নভেম্বর ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মেট্রোরেলের তিনটি স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে ।
রোববার (১ নভেম্বর) বেলা ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মেট্রোরেলের মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও চলাচল স্বাভাবিক;
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মেট্রোরেলের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহসিন শেখ গণমাধ্যমকে জানান, “শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে এই সময়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও এই তিন স্টেশনে কোনো ট্রেন থামেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর দুপুর ২টায় স্টেশনগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়।”
যেভাবে শুরু হয় সংঘর্ষ;
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ৯টার দিকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার এক দফা দাবিতে মিরপুর-১০ গোল চত্বর অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা। আকস্মিক এই অবরোধের ফলে ওই এলাকার চারপাশের প্রধান সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং সড়ক ফাঁকা করতে পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েকটি টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে আন্দোলনকারীরা মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে থাকা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
পুলিশের বক্তব্য;
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলেন, “সকালে পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে আমরা তাদের শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাই। কিন্তু তারা তা না শুনে উল্টো লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। বাধ্য হয়ে আমরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিই। তবে তাদের ওপর কোনো ধরনের গায়েবি বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি।”
তিনি আরও জানান, “আন্দোলনকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিলে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংঘর্ষে আমাদের দুই নারী পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।”
টানা তিন দিন ধরে চলছে অসন্তোষ;
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শনিবারও একই দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘ সময় ধরে অবরোধ করেছিলেন পোশাক শ্রমিকরা। বিশেষ করে শনিবার সড়ক অবরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানা ও শপিং মলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। ধারাবাহিক এই অসন্তোষের কারণে মিরপুর ও এর আশেপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।










