পূর্ব শত্রুতার জেরে রুস্তুম আলী হত্যা: দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এক আসামি গ্রেফতার র্যাবের অভিযানে
- আপডেট সময়ঃ ০৪:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:
০৩ আগস্ট ২০২৬
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘটিত আলোচিত রুস্তুম আলী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে শান্তিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা যায়, নিহত রুস্তুম আলী সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানার আস্তমা গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৪ জুলাই ২০২৬ ইং ,সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র, দা, কিরিচ, ছুরি, লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় রুস্তুম আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে শান্তিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর থেকেই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৯। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
র্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২ আগস্ট ২০২৬ ইং ,রাত আনুমানিক ৮টা ২৫ মিনিটে র্যাব-৯ এর সিপিসি-৩ (সুনামগঞ্জ) এবং সিপিসি-২ (শ্রীমঙ্গল)-এর সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের উত্তর বাড়াউড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর পলাতক আসামি সায়েক (২৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সায়েকের পিতার নাম নবিজ আলী। তার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রামে।
র্যাব আরও জানায়, শান্তিগঞ্জ থানার মামলা নং-১১, তারিখ ১৬ জুলাই ২০২৬, পেনাল কোড ১৮৬০-এর ১৪৩/৩২৬/৩০৭/৩০২/১১৪/৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, হত্যা মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে র্যাবের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।
এদিকে, নিহত রুস্তুম আলীর পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে এলাকায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।।















