০৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

“১০ লাখ টাকার ফার্নিচার, উঠছে নয়ছয়ের অভিযোগ”

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ১২:৪৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩৫ বার পড়া হয়েছে।

হকবার্তা ডেস্ক;

১০ আগস্ট ২০২৬

‎তাহিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দশ লাখ টাকার ফার্নিচার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকৌশলীও স্বীকার করেছেন, তিন ধরণের ফার্নিচারের মধ্যে এক ধরণের ফার্নিচারের মান নিম্নমানের, এটি গ্রহণ করার মত নয়।

‎ এডিপির বরাদ্দে হওয়া দরপত্রে এই ফার্নিচারের কাজ পেয়েছিলেন জেলার জামালগঞ্জের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পুলক নির্মাণ সংস্থা। তবে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হয়ে (সাব ঠিকাদার) ফার্নিচার সরবরাহ করেন তাহিরপুর উপজেলা যুবদল নেতা তুজাম্মিল হক নাসরুম।

‎জানা যায়, তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উপজেলা সদরের পাশে হওয়ায় ওই বিদ্যালয়ের একটি অব্যবহৃত বড় কক্ষকে মিলনায়তন করার প্রস্তাব দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া। তাঁর যুক্তি ছিল— এখানে মিলনায়তন হলে সমন্বয় কমিটির সভা, প্রধান শিক্ষকদের সভাসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয় জরুরি সভা এখানে করতে পারবেন। আবার স্কুলের প্রয়োজনেও এটি ব্যবহৃত হবে।

‎ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এই প্রস্তাবেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ার একমত হয়ে দরপত্রে ওই বিদ্যালয়ের হলরুমের বরাদ্দের জন্য দশলাখ টাকা মঞ্জুর করেন। দরপত্র অনুযায়ী ৬৫ ফুট লম্বা গোল টেবিল। ভিআইপি চেয়ার ও রিডিং চেয়ার মিলিয়ে ১৩১ টি চেয়ার সরবরাহ করার কথা ছিল।

‎সম্প্রতি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফার্নিচার সরবরাহ করা হলে উপজেলা প্রকৌশলী এই ফার্নিচার গ্রহণ করতে পারবেন না জানিয়ে দেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও এই ফার্নিচার গ্রহণ করা ঠিক হবে না বলে প্রকৌশলীকে জানান।

‎ওই বিদ্যালয়ের একজন ছাত্র অভিভাবক বললেন, হল রুমটি অত্যাধুনিক হবে এমপি সাহেবের ছোটখাটো সভাসহ সকল জরুরি সভা এখানে হবে জেনেছি আমরা।

‎স্থানীয় ইউপি সদস্য যুবদল নেতা ঠিকাদারের পক্ষে হলরুমের ফার্নিচার সরবরাহ করেন। ফার্নিচার নিয়ে আসার পর উপজেলা প্রকৌশলী ফার্নিচার গ্রহণ করেন নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও এই বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে একমত পোষণ করেন। কিন্তু রবিবার শুনলাম এই ফার্নিচারই গ্রহণ করা হয়েছে। এটি শুনে খারাপ লেগেছে।

‎বিদ্যালয়ের আরেকজন ছাত্র অভিভাবক এই প্রতিবেদককে ফার্নিচারের ভিডিও পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, ফার্নিচার দেখলে বুঝা যায়, হলরুমের প্রয়োজনের চেয়ে দশ লাখ টাকার ব্যবসা জরুরি ছিল।

‎তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশনরা বেগম বললেন, ফার্নিচার সরবরাহ করেছেন একজন স্থানীয় নেতা। আমাকে রিসিভ করার জন্য বলা হয় নি। রিসিভ কীভাবে হয়েছে জানি না। ফার্নিচার দেখতে ভালোই মনে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‎উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে দেওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পুলক নির্মাণ সংস্থার মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় ওই ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলা যায় নি। ঠিকাদারের হয়ে ফার্নিচার সরবরাহকারী যুবদল নেতা তুজাম্মিল হক নাসরুম বললেন, দরপত্রে যে কোম্পানীর নামোল্লেখ করা হয়েছে— আমরা সে কোম্পানীর (রিগ্যাল) চেয়ারই দিয়েছি।

‎ এক হাজার টাকার চেয়ারও দেওয়া যেতো, আমরা পাঁচ হাজার টাকার চেয়ার দিয়েছি। রিসিভ না করলে বদলে দেওয়া হবে।

‎উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া বললেন, হল রুম তৈরি করা ও ফার্নিচার কেনা আমার প্রস্তাবে হয়েছে। ঠিকাদারের সরবরাহ করা ফার্নিচারের মানের বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী ভালো বলতে পারবেন।

‎উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বললেন, ফার্নিচারের মধ্যে তিনটি আইটেম ছিল। দুটি গ্রহণ করেছি। একটি আইটেম অর্থাৎ রিডিং চেয়ারগুলো এখনো গ্রহণ করা হয় নি।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

“১০ লাখ টাকার ফার্নিচার, উঠছে নয়ছয়ের অভিযোগ”

আপডেট সময়ঃ ১২:৪৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

হকবার্তা ডেস্ক;

১০ আগস্ট ২০২৬

‎তাহিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দশ লাখ টাকার ফার্নিচার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকৌশলীও স্বীকার করেছেন, তিন ধরণের ফার্নিচারের মধ্যে এক ধরণের ফার্নিচারের মান নিম্নমানের, এটি গ্রহণ করার মত নয়।

‎ এডিপির বরাদ্দে হওয়া দরপত্রে এই ফার্নিচারের কাজ পেয়েছিলেন জেলার জামালগঞ্জের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পুলক নির্মাণ সংস্থা। তবে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হয়ে (সাব ঠিকাদার) ফার্নিচার সরবরাহ করেন তাহিরপুর উপজেলা যুবদল নেতা তুজাম্মিল হক নাসরুম।

‎জানা যায়, তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উপজেলা সদরের পাশে হওয়ায় ওই বিদ্যালয়ের একটি অব্যবহৃত বড় কক্ষকে মিলনায়তন করার প্রস্তাব দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া। তাঁর যুক্তি ছিল— এখানে মিলনায়তন হলে সমন্বয় কমিটির সভা, প্রধান শিক্ষকদের সভাসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয় জরুরি সভা এখানে করতে পারবেন। আবার স্কুলের প্রয়োজনেও এটি ব্যবহৃত হবে।

‎ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এই প্রস্তাবেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ার একমত হয়ে দরপত্রে ওই বিদ্যালয়ের হলরুমের বরাদ্দের জন্য দশলাখ টাকা মঞ্জুর করেন। দরপত্র অনুযায়ী ৬৫ ফুট লম্বা গোল টেবিল। ভিআইপি চেয়ার ও রিডিং চেয়ার মিলিয়ে ১৩১ টি চেয়ার সরবরাহ করার কথা ছিল।

‎সম্প্রতি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফার্নিচার সরবরাহ করা হলে উপজেলা প্রকৌশলী এই ফার্নিচার গ্রহণ করতে পারবেন না জানিয়ে দেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও এই ফার্নিচার গ্রহণ করা ঠিক হবে না বলে প্রকৌশলীকে জানান।

‎ওই বিদ্যালয়ের একজন ছাত্র অভিভাবক বললেন, হল রুমটি অত্যাধুনিক হবে এমপি সাহেবের ছোটখাটো সভাসহ সকল জরুরি সভা এখানে হবে জেনেছি আমরা।

‎স্থানীয় ইউপি সদস্য যুবদল নেতা ঠিকাদারের পক্ষে হলরুমের ফার্নিচার সরবরাহ করেন। ফার্নিচার নিয়ে আসার পর উপজেলা প্রকৌশলী ফার্নিচার গ্রহণ করেন নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও এই বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে একমত পোষণ করেন। কিন্তু রবিবার শুনলাম এই ফার্নিচারই গ্রহণ করা হয়েছে। এটি শুনে খারাপ লেগেছে।

‎বিদ্যালয়ের আরেকজন ছাত্র অভিভাবক এই প্রতিবেদককে ফার্নিচারের ভিডিও পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, ফার্নিচার দেখলে বুঝা যায়, হলরুমের প্রয়োজনের চেয়ে দশ লাখ টাকার ব্যবসা জরুরি ছিল।

‎তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশনরা বেগম বললেন, ফার্নিচার সরবরাহ করেছেন একজন স্থানীয় নেতা। আমাকে রিসিভ করার জন্য বলা হয় নি। রিসিভ কীভাবে হয়েছে জানি না। ফার্নিচার দেখতে ভালোই মনে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‎উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে দেওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পুলক নির্মাণ সংস্থার মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় ওই ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলা যায় নি। ঠিকাদারের হয়ে ফার্নিচার সরবরাহকারী যুবদল নেতা তুজাম্মিল হক নাসরুম বললেন, দরপত্রে যে কোম্পানীর নামোল্লেখ করা হয়েছে— আমরা সে কোম্পানীর (রিগ্যাল) চেয়ারই দিয়েছি।

‎ এক হাজার টাকার চেয়ারও দেওয়া যেতো, আমরা পাঁচ হাজার টাকার চেয়ার দিয়েছি। রিসিভ না করলে বদলে দেওয়া হবে।

‎উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া বললেন, হল রুম তৈরি করা ও ফার্নিচার কেনা আমার প্রস্তাবে হয়েছে। ঠিকাদারের সরবরাহ করা ফার্নিচারের মানের বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী ভালো বলতে পারবেন।

‎উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বললেন, ফার্নিচারের মধ্যে তিনটি আইটেম ছিল। দুটি গ্রহণ করেছি। একটি আইটেম অর্থাৎ রিডিং চেয়ারগুলো এখনো গ্রহণ করা হয় নি।