০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষা আজ থেকে শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল: প্রধান উপদেষ্টা

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:১৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩ বার পড়া হয়েছে।

‎আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষে প্রস্তাবিত গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারের জন্য ‘ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হলো’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এখন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশই সর্বোচ্চ এবং এই নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

‎বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‎নির্বাচন আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আজ থেকে আমাদের পরীক্ষা শুরু হলো, যার ফাইনাল হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এখন থেকে ইসির নির্দেশই সবচেয়ে বড় নির্দেশ। একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমান্ডের মূল ভূমিকায় থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রস্তুতি বিবেচনায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‎বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইতিমধ্যে ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৩০০ জনের একটি বড় পর্যবেক্ষক দল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

‎দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন দেশের বিভিন্ন থানা থেকে ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা মোট লুট হওয়া অস্ত্রের ৬২.৪ শতাংশ।

‎একই সময়ে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়েছিল, যার মধ্যে ৫২ শতাংশ বা ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‎শান্তৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবেন। ফলে পরিস্থিতির প্রয়োজনে তারা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারবেন।”

‎নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সমন্বয় এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

পরীক্ষা আজ থেকে শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময়ঃ ০৯:১৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

‎আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষে প্রস্তাবিত গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারের জন্য ‘ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হলো’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এখন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশই সর্বোচ্চ এবং এই নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

‎বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‎নির্বাচন আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আজ থেকে আমাদের পরীক্ষা শুরু হলো, যার ফাইনাল হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এখন থেকে ইসির নির্দেশই সবচেয়ে বড় নির্দেশ। একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমান্ডের মূল ভূমিকায় থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রস্তুতি বিবেচনায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‎বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইতিমধ্যে ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৩০০ জনের একটি বড় পর্যবেক্ষক দল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

‎দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন দেশের বিভিন্ন থানা থেকে ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা মোট লুট হওয়া অস্ত্রের ৬২.৪ শতাংশ।

‎একই সময়ে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়েছিল, যার মধ্যে ৫২ শতাংশ বা ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‎শান্তৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবেন। ফলে পরিস্থিতির প্রয়োজনে তারা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারবেন।”

‎নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সমন্বয় এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।