০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ইসহাক দারের একাধিক ফোন, জেদ্দা যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা; ওআইসি’র জরুরি সভা

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৩৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৭৯ বার পড়া হয়েছে।

‎সোমালিয়ার ‘সোমালিল্যান্ড’ অঞ্চলে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ‘অননুমোদিত’ সফরের প্রতিবাদে সৌদি আরবের জেদ্দায় জরুরি সভা আহ্বান করেছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ওআইসি ও বাংলাদেশসহ ২৩টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। 

‎পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দিতে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বৈঠক শেষে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

‎২৩টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি কর্মকর্তার ওই সফরের কড়া সমালোচনা করেছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার, ইরান, ইরাক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ ও ওমানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশ।

‎পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জেদ্দার এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ ইসলামি অবস্থান তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সোমালিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার দাবি জানানো।

‎যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফর ফেডারেল রিপাবলিক অব সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও জাতিসংঘ সনদকে ক্ষুণ্ন করেছে। দেশগুলো সোমালিয়ার ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী এজেন্ডাকে উৎসাহিত করাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।

‎যৌথ বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে যে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কূটনৈতিক নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য।

‎ওআইসির এই জরুরি সভাকে কেন্দ্র করে গত তিন দিনের ব্যবধানে দুই দফা কথা বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। সর্বশেষ গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা ফোনালাপ হয়।

‎পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ওআইসি অধিবেশন নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া আগামী ১০ জানুয়ারি জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় ওআইসির ‘কাউন্সিল অফ ফরেন মিনিস্টারস’ অধিবেশন আহ্বানের প্রশংসা করেন তারা।

‎এর আগে গত ৪ জানুয়ারি বেইজিং থেকে তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ইসহাক দার। পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উভয় দেশ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। সেই আলাপও ছিল ওআইসি বৈঠকের বিষয়। একই দিনে ইসহাক দার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আহমেদ মোহাম্মেদ আবদেলাটির সঙ্গে পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেন।

‎উল্লেখ্য যে, গত ২৭ ডিসেম্বর ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিবৃতিতে সোমালিল্যান্ড অঞ্চলকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। এবারের সভা সেই অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা এবং একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎ওআইসির এই জরুরি সভার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। সভায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ইসরায়েলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। বৈঠকে সোমালিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।

‎এছাড়া, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা হবে। বৈঠকের শেষে, ওআইসি সদস্য দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে তারা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

‎এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে তারা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

‎তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ইসহাক দারের একাধিক ফোন, জেদ্দা যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা; ওআইসি’র জরুরি সভা

আপডেট সময়ঃ ০৬:৩৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

‎সোমালিয়ার ‘সোমালিল্যান্ড’ অঞ্চলে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ‘অননুমোদিত’ সফরের প্রতিবাদে সৌদি আরবের জেদ্দায় জরুরি সভা আহ্বান করেছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ওআইসি ও বাংলাদেশসহ ২৩টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। 

‎পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দিতে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বৈঠক শেষে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

‎২৩টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি কর্মকর্তার ওই সফরের কড়া সমালোচনা করেছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার, ইরান, ইরাক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ ও ওমানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশ।

‎পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জেদ্দার এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ ইসলামি অবস্থান তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সোমালিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার দাবি জানানো।

‎যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফর ফেডারেল রিপাবলিক অব সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও জাতিসংঘ সনদকে ক্ষুণ্ন করেছে। দেশগুলো সোমালিয়ার ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী এজেন্ডাকে উৎসাহিত করাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।

‎যৌথ বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে যে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কূটনৈতিক নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য।

‎ওআইসির এই জরুরি সভাকে কেন্দ্র করে গত তিন দিনের ব্যবধানে দুই দফা কথা বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। সর্বশেষ গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা ফোনালাপ হয়।

‎পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ওআইসি অধিবেশন নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া আগামী ১০ জানুয়ারি জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় ওআইসির ‘কাউন্সিল অফ ফরেন মিনিস্টারস’ অধিবেশন আহ্বানের প্রশংসা করেন তারা।

‎এর আগে গত ৪ জানুয়ারি বেইজিং থেকে তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ইসহাক দার। পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উভয় দেশ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। সেই আলাপও ছিল ওআইসি বৈঠকের বিষয়। একই দিনে ইসহাক দার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আহমেদ মোহাম্মেদ আবদেলাটির সঙ্গে পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেন।

‎উল্লেখ্য যে, গত ২৭ ডিসেম্বর ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিবৃতিতে সোমালিল্যান্ড অঞ্চলকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। এবারের সভা সেই অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা এবং একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎ওআইসির এই জরুরি সভার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। সভায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ইসরায়েলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। বৈঠকে সোমালিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।

‎এছাড়া, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা হবে। বৈঠকের শেষে, ওআইসি সদস্য দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে তারা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

‎এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে তারা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

‎তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন