০২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

‎তাহিরপুরে কাপড়ের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি: টিন কেটে ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ লুট

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৯৫ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজারে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। 

সংঘবদ্ধ চোরচক্র একটি কাপড়ের দোকানের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ অর্থসহ প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যবসায়ী মহলে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

‎ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী বীরেন্দ্র বর্মন প্রতিদিনের ন্যায় গত শুক্রবার রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দোকানের সাটারে তালা লাগিয়ে বাড়িতে চলে যান। পরদিন শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি দোকান খোলার জন্য বাজারে আসেন।

‎সাটারের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই বীরেন্দ্র বর্মনের নজরে আসে দোকানের ভেতরকার জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। দোকানের পেছনের দরজাটি খোলা এবং উপরের টিন কাটা। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বুঝতে পারেন যে, রাতে কোনো এক সময় সংঘবদ্ধ চোরচক্র দোকানের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে লুটপাট চালিয়েছে।

‎ব্যবসায়ী বীরেন্দ্র বর্মন জানান, চোরচক্র দোকান থেকে দামী শাড়ী, লুঙ্গি, থ্রি-পিস ও বিভিন্ন উন্নতমানের গার্মেন্টস সামগ্রী বস্তাবন্দি করে নিয়ে গেছে। চুরি হওয়া কাপড়ের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লক্ষ টাকারও বেশি। এছাড়া ক্যাশ বাক্সে থাকা ব্যবসায়িক লেনদেনের নগদ ৩৫ হাজার টাকাও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

‎ঘটনার খবর পেয়ে বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি চুরির ধরণ দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন।

 

তিনি বলেন: “আনোয়ারপুর বাজারে চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমি নিজে সরজমিন গিয়ে দোকান মালিকের সাথে কথা বলেছি এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য এবং আইনি ব্যবস্থা নিতে আমি দোকান মালিককে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”

‎নিঃস্ব হয়ে পড়া ব্যবসায়ী বীরেন্দ্র বর্মন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। চোরেরা আমার সব শেষ করে দিয়েছে। আমি এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব জানি না। আমি প্রশাসনের কাছে মালামাল উদ্ধার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।”

‎এ ঘটনায় বীরেন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে শনিবার বিকেলেই তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বাজারের নৈশপ্রহরী বা অন্য কারো গাফিলতি আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎তাহিরপুরে কাপড়ের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি: টিন কেটে ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ লুট

আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজারে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। 

সংঘবদ্ধ চোরচক্র একটি কাপড়ের দোকানের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ অর্থসহ প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যবসায়ী মহলে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

‎ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী বীরেন্দ্র বর্মন প্রতিদিনের ন্যায় গত শুক্রবার রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দোকানের সাটারে তালা লাগিয়ে বাড়িতে চলে যান। পরদিন শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি দোকান খোলার জন্য বাজারে আসেন।

‎সাটারের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই বীরেন্দ্র বর্মনের নজরে আসে দোকানের ভেতরকার জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। দোকানের পেছনের দরজাটি খোলা এবং উপরের টিন কাটা। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বুঝতে পারেন যে, রাতে কোনো এক সময় সংঘবদ্ধ চোরচক্র দোকানের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে লুটপাট চালিয়েছে।

‎ব্যবসায়ী বীরেন্দ্র বর্মন জানান, চোরচক্র দোকান থেকে দামী শাড়ী, লুঙ্গি, থ্রি-পিস ও বিভিন্ন উন্নতমানের গার্মেন্টস সামগ্রী বস্তাবন্দি করে নিয়ে গেছে। চুরি হওয়া কাপড়ের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লক্ষ টাকারও বেশি। এছাড়া ক্যাশ বাক্সে থাকা ব্যবসায়িক লেনদেনের নগদ ৩৫ হাজার টাকাও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

‎ঘটনার খবর পেয়ে বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি চুরির ধরণ দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন।

 

তিনি বলেন: “আনোয়ারপুর বাজারে চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমি নিজে সরজমিন গিয়ে দোকান মালিকের সাথে কথা বলেছি এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য এবং আইনি ব্যবস্থা নিতে আমি দোকান মালিককে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”

‎নিঃস্ব হয়ে পড়া ব্যবসায়ী বীরেন্দ্র বর্মন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। চোরেরা আমার সব শেষ করে দিয়েছে। আমি এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব জানি না। আমি প্রশাসনের কাছে মালামাল উদ্ধার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।”

‎এ ঘটনায় বীরেন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে শনিবার বিকেলেই তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বাজারের নৈশপ্রহরী বা অন্য কারো গাফিলতি আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।