ধর্মপাশায় কালবৈশাখীর ছোবলঃ
বজ্রপাতে কলেজ ছাত্রসহ দুই জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, দগ্ধ আরও দুই
- আপডেট সময়ঃ ০৫:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
- / ২৭ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবের সাথে আকস্মিক বজ্রপাতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষার্থী ও এক কিশোরের অকাল মৃত্যু হয়েছে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিভাগীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন—উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে ও বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী হবিবুর রহমান (২২) এবং জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (১৩)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা থাকলেও দুপুরের দিকে হঠাৎ করে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এসময় পাইকুরাটি ইউনিয়নের টগার হাওর সংলগ্ন চকিয়াচাপুর গ্রামে নিজের চাচার সাথে বোরো ধান কাটতে ব্যস্ত ছিলেন কলেজ ছাত্র হবিবুর রহমান।
ঝড়ের সাথে তীব্র বজ্রপাত শুরু হলে হবিবুরসহ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। উপস্থিত লোকজন দ্রুত হবিবুরকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় আহত অন্যান্য শ্রমিকরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিবারের বড় ছেলেকে হারিয়ে হবিবুরের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।
অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর ও ইসলামপুর গ্রাম এলাকায় দ্বিতীয় বজ্রপাতের ঘটনাটি ঘটে। দুপুর ১টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়েন জয়নাল হক (৩৫), তার ছেলে রহমত উল্লাহ এবং একই গ্রামের লাল সাধুর স্ত্রী শিখা মনি (২৫)।
বজ্রাঘাতে তারা তিনজনই মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও আহত হন। এলাকাবাসী তাদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কিশোর রহমত উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত জয়নাল হক ও শিখা মনির অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। একই সাথে নিজের সন্তানকে হারানো এবং গুরুতর আহত অবস্থায় বাবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় এলাকায় গভীর বিষাদ নেমে এসেছে।
উপজেলায় এই দুটি পৃথক ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। হাওর অঞ্চলে ধান কাটার এই মৌসুমে বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।














