বন্ধু বদলানো যায়, প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না: প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান
- আপডেট সময়ঃ ০৫:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
১১ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভৌগোলিক বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান। তিনি বলেছেন, “বন্ধু বদলানো যায়, প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না।”
সম্প্রতি তাঁর এমন একটি বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে। বক্তব্যটির মাধ্যমে তিনি মূলত একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন।
প্রতিবেশী সম্পর্কের গুরুত্ব:
একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটতে পারে। সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মিত্র তৈরি হতে পারে, আবার বিদ্যমান বন্ধুত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।
জাহেদুর রহমানের বক্তব্যে সেই বাস্তবতাই প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর মন্তব্যের মূল বার্তা হলো—আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনায় আবেগের পরিবর্তে বাস্তবতা, পারস্পরিক স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলকে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
কূটনীতিতে ভারসাম্যের প্রয়োজন:
বাংলাদেশের মতো ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশের জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানি, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ নানা ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ সরাসরি যুক্ত।
এ কারণে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন বা নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককেও বাস্তবতার আলোকে পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
‘বন্ধু’ ও ‘প্রতিবেশী’র পার্থক্য:
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিভাষায় কোনো দেশকে ‘বন্ধু’ হিসেবে বিবেচনা করা সময় ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। সরকার পরিবর্তন, বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তন কিংবা অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের সমীকরণও বদলে যেতে পারে।
অন্যদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক একটি দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতা। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাহেদুর রহমানের বক্তব্যে সেই কূটনৈতিক বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে। তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্যটি একই সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতিতে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রতিবেশী সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্বের বিষয়টি সামনে এনেছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বন্ধুত্বের সমীকরণ পরিবর্তনশীল হলেও ভৌগোলিক প্রতিবেশী পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দায়িত্বশীল, বাস্তবভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।




















