০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

‘বিএনপির সেক্রেটারি হতে ৫০ লাখ খরচের দাবি করে’—পৌরসভায় কাউকে না আসার হুঁশিয়ারি”

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ১২:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে।

‎হকবার্তা ডেস্ক;

‎১২ আগস্ট ২০২৬

‎একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে না পেরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়াকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছেন রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশ।

 

‎সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি কলরেকর্ডে এই হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়। অডিওটিতে পদ পেতে ৫০ লাখ টাকা খরচের চাঞ্চল্যকর দাবিও করতে শোনা যায় পৌর বিএনপির এই নেতাকে।

‎কলরেকর্ডে শোনা যায়, গিয়াস উদ্দিন পলাশ রাগান্বিত হয়ে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মারুফ ভূঁইয়াকে বলছেন, ‘আমি পৌর বিএনপির সেক্রেটারি, আমার নাম ব্যানারে আসে নাই। আপনি নাকি বলেছেন পলাইশশা কে? নির্বাচিত সেক্রেটারি, সেক্রেটারি হতে ৫০ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছি। তোরা কেউ পৌরসভায় আসবি না।’

‎অডিওর কথোপকথন অনুযায়ী, পানিওয়ালা নামক একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে মনোয়ার নামের একজনকে প্রধান অতিথি এবং মারুফকে বিশেষ অতিথি করায় ক্ষুব্ধ হন পলাশ। তিনি বারবার প্রশ্ন তোলেন কেন তাকে প্রধান অতিথি করা হলো না। জবাবে মারুফ ভূঁইয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কিছু বলিনি ভাই।’ একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়, যেখানে কিছু অশ্রাব্য শব্দও ব্যবহৃত হয়।

‎পলাশ আরও বলেন, ‘সাংগঠনিক রাজনীতি যদি না বোঝেন, তাহলে করবেন না। আমি পানিওয়ালাতে যাব, সেখানেই কথা হবে।’

‎এ বিষয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, ‘অডিওটি পুরোনো। সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি ইতিমধ্যে মীমাংসা হয়ে গেছে এবং পলাশ ভাই আমার কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।’

‎হুমকি ও পদ পেতে অর্থ খরচের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। তবে তার এক ঘনিষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রাগের বশবর্তী হয়ে পলাশ ওই কথাগুলো বলেছিলেন। বর্তমানে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।

‎২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত রামগঞ্জ পৌর বিএনপির কাউন্সিলে ভোটে নির্বাচিত হয়ে সাধারণ সম্পাদকের পদ পান গিয়াস উদ্দিন পলাশ। একই কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ কামরুল ইসলাম। তবে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানের ব্যানারকে কেন্দ্র করে নিজ দলের নেতার সঙ্গে পলাশের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং অর্থ খরচের স্বীকারোক্তি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‘বিএনপির সেক্রেটারি হতে ৫০ লাখ খরচের দাবি করে’—পৌরসভায় কাউকে না আসার হুঁশিয়ারি”

আপডেট সময়ঃ ১২:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

‎হকবার্তা ডেস্ক;

‎১২ আগস্ট ২০২৬

‎একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে না পেরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়াকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছেন রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশ।

 

‎সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি কলরেকর্ডে এই হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়। অডিওটিতে পদ পেতে ৫০ লাখ টাকা খরচের চাঞ্চল্যকর দাবিও করতে শোনা যায় পৌর বিএনপির এই নেতাকে।

‎কলরেকর্ডে শোনা যায়, গিয়াস উদ্দিন পলাশ রাগান্বিত হয়ে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মারুফ ভূঁইয়াকে বলছেন, ‘আমি পৌর বিএনপির সেক্রেটারি, আমার নাম ব্যানারে আসে নাই। আপনি নাকি বলেছেন পলাইশশা কে? নির্বাচিত সেক্রেটারি, সেক্রেটারি হতে ৫০ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছি। তোরা কেউ পৌরসভায় আসবি না।’

‎অডিওর কথোপকথন অনুযায়ী, পানিওয়ালা নামক একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে মনোয়ার নামের একজনকে প্রধান অতিথি এবং মারুফকে বিশেষ অতিথি করায় ক্ষুব্ধ হন পলাশ। তিনি বারবার প্রশ্ন তোলেন কেন তাকে প্রধান অতিথি করা হলো না। জবাবে মারুফ ভূঁইয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কিছু বলিনি ভাই।’ একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়, যেখানে কিছু অশ্রাব্য শব্দও ব্যবহৃত হয়।

‎পলাশ আরও বলেন, ‘সাংগঠনিক রাজনীতি যদি না বোঝেন, তাহলে করবেন না। আমি পানিওয়ালাতে যাব, সেখানেই কথা হবে।’

‎এ বিষয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, ‘অডিওটি পুরোনো। সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি ইতিমধ্যে মীমাংসা হয়ে গেছে এবং পলাশ ভাই আমার কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।’

‎হুমকি ও পদ পেতে অর্থ খরচের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। তবে তার এক ঘনিষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রাগের বশবর্তী হয়ে পলাশ ওই কথাগুলো বলেছিলেন। বর্তমানে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।

‎২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত রামগঞ্জ পৌর বিএনপির কাউন্সিলে ভোটে নির্বাচিত হয়ে সাধারণ সম্পাদকের পদ পান গিয়াস উদ্দিন পলাশ। একই কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ কামরুল ইসলাম। তবে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানের ব্যানারকে কেন্দ্র করে নিজ দলের নেতার সঙ্গে পলাশের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং অর্থ খরচের স্বীকারোক্তি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।