১২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মুশতাক গাজীনগরীর রহস্যজনক মৃত্যু —- জমিয়তের অপরাংশের নেতা আব্দুল হাফিজ গ্রেপ্তার

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:০৩:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৫০ বার পড়া হয়েছে।

‎জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রিয় কমিটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জমিয়তের অপরাংশের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার ভোর রাতে পুলিশ সিলেট নগরী থেকে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে।

‎গেল বুধবার বিকেলে মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর স্ত্রী রুবি বেগম শান্তিগঞ্জ থানায় সাধারণ জিডিতে উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিনই মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর সন্ধান চেয়ে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ ও সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। পুলিশ ওইদিন জানায় জানিয়েছিল, মঙ্গলবার রাত ১১ টায় সর্বশেষ মাওলানা মুশতাককে দিরাই সড়ক মোড়ে দেখা গেছে।

‎গ্রেফতার হওয়া- এম আব্দুল হাফিজ

 

‎সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রোকনউদ্দিন জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরী সুনামগঞ্জ এসেছিলেন। তাদের একজন জুনিয়র কর্মী সুমন আহমদ হুজুরকে য়াওয়ার সময় সিএনজিতে তুলে দিয়েছেন, দিরাই সড়কমোড়ে নামেন হুজুর। ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত উনাকে দিরাই সড়কমোড়ে একটি সিসি ক্যামেরায় দেখা গেছে। সিসি ক্যামেরা থেকে বের হওয়ার পরে উনাকে আর পাওয়া যায় নি।

‎মুস্তাক আহমদ গাজিনগরীর স্ত্রী রুবি বেগম বুধবার রাতে বলেন, মঙ্গলবার রাত দশটা একান্ন মিনিটে ফোনে সর্বশেষ তার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়। তখন তিনি বলেছিলেন, এক ঘণ্টার মধ্যে বাড়ীতে আসছি, এটাই ছিল লাস্ট কথা। এরপর সারারাত ফোন দিলেও তার ফোনে কল যায় নি।

‎গেল শুক্রবার সকালে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের পুরাতন সুরমা নদী থেকে মাওলানা মুশতাকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ক্ষোভে ফেটে পড়েন জমিয়তের কর্মী সমর্থকরা। রোববার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘটনার মোটিভ উদ্ধারে সুনামগঞ্জ—সিলেট মহাসড়কের দিরাই সড়ক মোড়ে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষুব্ধরা। এসময় সুনামগঞ্জের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোড়াযোগ বন্ধ ছিল। হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে সড়কে।

‎রোববার রাতে মুশতাকের স্ত্রী রুবি বেগম জমিয়তের অপরাংশের (ওয়াক্কাস গ্রুপ) শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুল হাফিজের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত চার—পাঁচ জন আসামি দিয়ে দিরাই থানায় খুনের মামলা দায়ের করেন। আজ সোমবার ভোর রাতে পুলিশ সিলেট নগরী থেকে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে। আব্দুল হাফিজ সুনামগঞ্জ—৩ (জগন্নাথপুর— শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, কেন্দ্রীয় জমিয়তের প্রচার সম্পাদক সৈয়দ তালহা আলমের সমর্থক। অন্যদিকে মাওলানা মুশতাক জমিয়তের অন্য গ্রুপের (ক্বাসেমী গ্রুপ) সুনামগঞ্জ—৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা হাম্মাদ আহমদ গাজীনগরীর সমর্থক ও আত্মীয়।

‎জমিয়তের একাংশের সম্ভাব্য প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম সোমবার দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘মুসতাক গাজিনগরীর ‘মৃত্যু রহস্য মামলায় এম আব্দুল হাফিজকে সিলেট থেকে দিরাই থানা ‘সন্দেহজনকভাবে’ পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমরা বিকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বিষয়ে আপডেট জানিয়ে দিবো।’ গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল হাফিজের বাড়ী পাথারিয়া ইউনিয়নের দরগাপুর গ্রামে।

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সোমবার বেলা সোয়া একটায় জানান, মুশতাক গাজীনগরীর স্ত্রী’র দায়ের করা মামলার এজাহার নামীয় আসামি। তাকে ভোর রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দিরাই থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাকও একই তথ্য জানিয়ে বলেন, আব্দুল হাফিজের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪—৫ জনকে আসামি করে খুনের মামলা হয়েছে। তদন্তকালে আরও কাউকে জড়িত পাওয়া গেলে, আসামির সংখ্যা বাড়তে পারে।

 

‎সুত্র:সুনামগঞ্জেরখবর

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

মুশতাক গাজীনগরীর রহস্যজনক মৃত্যু —- জমিয়তের অপরাংশের নেতা আব্দুল হাফিজ গ্রেপ্তার

আপডেট সময়ঃ ০৮:০৩:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

‎জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রিয় কমিটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জমিয়তের অপরাংশের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার ভোর রাতে পুলিশ সিলেট নগরী থেকে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে।

‎গেল বুধবার বিকেলে মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর স্ত্রী রুবি বেগম শান্তিগঞ্জ থানায় সাধারণ জিডিতে উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিনই মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর সন্ধান চেয়ে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ ও সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। পুলিশ ওইদিন জানায় জানিয়েছিল, মঙ্গলবার রাত ১১ টায় সর্বশেষ মাওলানা মুশতাককে দিরাই সড়ক মোড়ে দেখা গেছে।

‎গ্রেফতার হওয়া- এম আব্দুল হাফিজ

 

‎সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রোকনউদ্দিন জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরী সুনামগঞ্জ এসেছিলেন। তাদের একজন জুনিয়র কর্মী সুমন আহমদ হুজুরকে য়াওয়ার সময় সিএনজিতে তুলে দিয়েছেন, দিরাই সড়কমোড়ে নামেন হুজুর। ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত উনাকে দিরাই সড়কমোড়ে একটি সিসি ক্যামেরায় দেখা গেছে। সিসি ক্যামেরা থেকে বের হওয়ার পরে উনাকে আর পাওয়া যায় নি।

‎মুস্তাক আহমদ গাজিনগরীর স্ত্রী রুবি বেগম বুধবার রাতে বলেন, মঙ্গলবার রাত দশটা একান্ন মিনিটে ফোনে সর্বশেষ তার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়। তখন তিনি বলেছিলেন, এক ঘণ্টার মধ্যে বাড়ীতে আসছি, এটাই ছিল লাস্ট কথা। এরপর সারারাত ফোন দিলেও তার ফোনে কল যায় নি।

‎গেল শুক্রবার সকালে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের পুরাতন সুরমা নদী থেকে মাওলানা মুশতাকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ক্ষোভে ফেটে পড়েন জমিয়তের কর্মী সমর্থকরা। রোববার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘটনার মোটিভ উদ্ধারে সুনামগঞ্জ—সিলেট মহাসড়কের দিরাই সড়ক মোড়ে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষুব্ধরা। এসময় সুনামগঞ্জের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোড়াযোগ বন্ধ ছিল। হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে সড়কে।

‎রোববার রাতে মুশতাকের স্ত্রী রুবি বেগম জমিয়তের অপরাংশের (ওয়াক্কাস গ্রুপ) শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুল হাফিজের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত চার—পাঁচ জন আসামি দিয়ে দিরাই থানায় খুনের মামলা দায়ের করেন। আজ সোমবার ভোর রাতে পুলিশ সিলেট নগরী থেকে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে। আব্দুল হাফিজ সুনামগঞ্জ—৩ (জগন্নাথপুর— শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, কেন্দ্রীয় জমিয়তের প্রচার সম্পাদক সৈয়দ তালহা আলমের সমর্থক। অন্যদিকে মাওলানা মুশতাক জমিয়তের অন্য গ্রুপের (ক্বাসেমী গ্রুপ) সুনামগঞ্জ—৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা হাম্মাদ আহমদ গাজীনগরীর সমর্থক ও আত্মীয়।

‎জমিয়তের একাংশের সম্ভাব্য প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম সোমবার দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘মুসতাক গাজিনগরীর ‘মৃত্যু রহস্য মামলায় এম আব্দুল হাফিজকে সিলেট থেকে দিরাই থানা ‘সন্দেহজনকভাবে’ পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমরা বিকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বিষয়ে আপডেট জানিয়ে দিবো।’ গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল হাফিজের বাড়ী পাথারিয়া ইউনিয়নের দরগাপুর গ্রামে।

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সোমবার বেলা সোয়া একটায় জানান, মুশতাক গাজীনগরীর স্ত্রী’র দায়ের করা মামলার এজাহার নামীয় আসামি। তাকে ভোর রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দিরাই থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাকও একই তথ্য জানিয়ে বলেন, আব্দুল হাফিজের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪—৫ জনকে আসামি করে খুনের মামলা হয়েছে। তদন্তকালে আরও কাউকে জড়িত পাওয়া গেলে, আসামির সংখ্যা বাড়তে পারে।

 

‎সুত্র:সুনামগঞ্জেরখবর