১০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
খুলনায় রণক্ষেত্র, থমথমে পরিস্থিতি

র‌্যাবকে অবরুদ্ধ করে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিলো হাজারো জনতা

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১০:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • / ০ বার পড়া হয়েছে।

খুলনার দাকোপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক অভিযানে নজিরবিহীন এক ঘটনা ঘটেছে।

একটি মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এলিট ফোর্স র‍্যাবের হেফাজত থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। 

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা গ্রামে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। এর ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত দাকোপের একটি দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খাস জমিতে অবস্থিত চিংড়ি ঘেরের মালিকানা ও দখল নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে অনেক দিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলছিল।

এই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষের ঘটনায় আব্দুল্লাহ ফকির নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে দাকোপ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

‎আজ শনিবার ওই মামলার প্রতিবাদে স্থানীয় বাজার এলাকায় অপর পক্ষের উদ্যোগে একটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তবে কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান দুই আসামি রসুল গাজী ও ফারুককে গ্রেপ্তার করে র‍্যাবের একটি দল।

‎আসামি গ্রেপ্তারের এই খবরটি মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে স্থানীয় হাজার হাজার বাসিন্দা ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা সাধারণ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হন।

একপর্যায়ে তারা র‍্যাব সদস্যদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা র‍্যাবের হেফাজত থেকে জোরপূর্বক দুই আসামিকে মুক্ত করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

‎অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ছিনিয়ে নেওয়া আসামিদের পুনরায় গ্রেপ্তার করতে তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন।

বর্তমানে র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে খোনা গ্রামে অবস্থান করছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও স্থানীয়দের মাঝে এখনো থমথমে পরিস্থিতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

‎তথ্যসহায়তাঃচ্যানেল24

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

খুলনায় রণক্ষেত্র, থমথমে পরিস্থিতি

র‌্যাবকে অবরুদ্ধ করে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিলো হাজারো জনতা

আপডেট সময়ঃ ১০:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

খুলনার দাকোপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক অভিযানে নজিরবিহীন এক ঘটনা ঘটেছে।

একটি মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এলিট ফোর্স র‍্যাবের হেফাজত থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। 

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা গ্রামে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। এর ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত দাকোপের একটি দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খাস জমিতে অবস্থিত চিংড়ি ঘেরের মালিকানা ও দখল নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে অনেক দিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলছিল।

এই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষের ঘটনায় আব্দুল্লাহ ফকির নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে দাকোপ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

‎আজ শনিবার ওই মামলার প্রতিবাদে স্থানীয় বাজার এলাকায় অপর পক্ষের উদ্যোগে একটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তবে কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান দুই আসামি রসুল গাজী ও ফারুককে গ্রেপ্তার করে র‍্যাবের একটি দল।

‎আসামি গ্রেপ্তারের এই খবরটি মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে স্থানীয় হাজার হাজার বাসিন্দা ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা সাধারণ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হন।

একপর্যায়ে তারা র‍্যাব সদস্যদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা র‍্যাবের হেফাজত থেকে জোরপূর্বক দুই আসামিকে মুক্ত করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

‎অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ছিনিয়ে নেওয়া আসামিদের পুনরায় গ্রেপ্তার করতে তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন।

বর্তমানে র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে খোনা গ্রামে অবস্থান করছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও স্থানীয়দের মাঝে এখনো থমথমে পরিস্থিতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

‎তথ্যসহায়তাঃচ্যানেল24