০৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আউটসোর্সিং নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও চরম অনিয়মের অভিযোগ- সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
  • / ৩৫১ বার পড়া হয়েছে।

হাওরপাড়ের মানুষের একমাত্র ভরসা সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল। জেলার প্রায় ২৬ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নির্ভর করে এই হাসপাতালের ওপর। তবে এমন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং নিয়োগকে ঘিরে ঘুষ বাণিজ্য ও চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ২ টায় হাসপাতালের আউটসোর্সিং নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুনামগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা বিগত ৫-৬ বছর ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন আউটসোর্সিং পদে চাকরি করে আসছিলেন। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তাদের নিয়োগ দেওয়া হলেও হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক মাহবুবুর রহমান স্বপন পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়াদ শেষ হলে স্টাফদের কাছ থেকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ঘুষ দাবি করেন।

তারা জানান, ঘুষের এই দাবির বিরুদ্ধে তারা একসময় আন্দোলনে নামলে, প্রশাসনের সহায়তায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে অনেকে আহত হন এবং চাকরি হারানোর ভয়েও পড়েন।

পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন’-এর আহ্বায়কসহ বিভিন্ন মহল মধ্যস্থতায় বসে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। সেসময় জানানো হয়, যখন নতুন নিয়োগ হবে, তখন পুরনো কর্মীদেরকেই বিনা ঘুষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হবে।

কিন্তু বাস্তবে টেন্ডার শেষ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, টাকা ছাড়া কোনো নিয়োগই হচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা জানান, সরাসরি হাসপাতাল পরিচালককে বিষয়টি জানালে তিনি উল্টো পরামর্শ দেন—“কাকে টাকা দিলে চাকরি হবে” এবং “কার হাতে টাকা দিতে হবে”।

ভুক্তভোগী আবির বলেন, “আমি টাকা দেওয়ার পরেও চাকরি পাইনি। এখন টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দিচ্ছে।”

চাকরিপ্রার্থী তৌহিদ জানান, “আমরা বছরের পর বছর ধরে এখানে কাজ করেছি। এখন নতুন করে নিয়োগে আমাদেরই টাকা দিতে বলা হচ্ছে। আমি ধার দেনা করে ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি অথচ আমার চাকরি হলো না। এখন টাকা ফেরতও দিচ্ছে না।”

সোহেল বলেন, “আমি ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। বলা হয়েছিল চাকরি হবে। এখন বলছে তালিকায় নাম নেই। টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো মামলার ভয় দেখাচ্ছে।”

শামসুন্নাহার বলেন, “নারী হিসেবে আমরা আরও বেশি বিপদে আছি। চাকরির জন্য ধারদেনা করেছি। এখন পরিবারে যেতে পারছি না, সমাজেও মুখ দেখাতে পারছি না।”

ফাতেমা বলেন, “হাসপাতালের মতো মানবসেবার জায়গায় যদি এমন ঘুষ চলে, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে?”

ইমরান, সুরাইয়া, শুকলা, রাজীবসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও একই অভিযোগ তুলে ধরে অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল, ঘুষ লেনদেনের সুষ্ঠু তদন্ত, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং যারা টাকা দিয়েও চাকরি পাননি, তাদের পুনর্বহালের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, “একদিকে আমরা বছরের পর বছর কাজ করেও আজ বঞ্চিত, অন্যদিকে নতুনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই ঘুষ বানিজ্য সরাসরি পরিচালক মাহবুবুর রহমান স্বপন, ঢাকার কোম্পানি গাউছিয়া, কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি মোশারফ হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান, যুবলীগ নেতা সফিকুল, হাসপাতালের কর্মচারী নয়ন জড়িত বলে জানান বক্তারা। এটি চরম অবিচার ও দুর্নীতি।”

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতির সুষ্ঠ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে চাকরিরত কর্মীদের পুনর্বহালের দাবি জানান।

তাদের এই বক্তব্যে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকবৃন্দ।

এ ব্যাপারে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক মাহবুবুর রহমান স্বপনকে বার বার ফোন দেওয়ার পরেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আউটসোর্সিং নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও চরম অনিয়মের অভিযোগ- সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময়ঃ ০৪:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

হাওরপাড়ের মানুষের একমাত্র ভরসা সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল। জেলার প্রায় ২৬ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নির্ভর করে এই হাসপাতালের ওপর। তবে এমন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং নিয়োগকে ঘিরে ঘুষ বাণিজ্য ও চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ২ টায় হাসপাতালের আউটসোর্সিং নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুনামগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা বিগত ৫-৬ বছর ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন আউটসোর্সিং পদে চাকরি করে আসছিলেন। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তাদের নিয়োগ দেওয়া হলেও হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক মাহবুবুর রহমান স্বপন পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়াদ শেষ হলে স্টাফদের কাছ থেকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ঘুষ দাবি করেন।

তারা জানান, ঘুষের এই দাবির বিরুদ্ধে তারা একসময় আন্দোলনে নামলে, প্রশাসনের সহায়তায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে অনেকে আহত হন এবং চাকরি হারানোর ভয়েও পড়েন।

পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন’-এর আহ্বায়কসহ বিভিন্ন মহল মধ্যস্থতায় বসে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। সেসময় জানানো হয়, যখন নতুন নিয়োগ হবে, তখন পুরনো কর্মীদেরকেই বিনা ঘুষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হবে।

কিন্তু বাস্তবে টেন্ডার শেষ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, টাকা ছাড়া কোনো নিয়োগই হচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা জানান, সরাসরি হাসপাতাল পরিচালককে বিষয়টি জানালে তিনি উল্টো পরামর্শ দেন—“কাকে টাকা দিলে চাকরি হবে” এবং “কার হাতে টাকা দিতে হবে”।

ভুক্তভোগী আবির বলেন, “আমি টাকা দেওয়ার পরেও চাকরি পাইনি। এখন টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দিচ্ছে।”

চাকরিপ্রার্থী তৌহিদ জানান, “আমরা বছরের পর বছর ধরে এখানে কাজ করেছি। এখন নতুন করে নিয়োগে আমাদেরই টাকা দিতে বলা হচ্ছে। আমি ধার দেনা করে ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি অথচ আমার চাকরি হলো না। এখন টাকা ফেরতও দিচ্ছে না।”

সোহেল বলেন, “আমি ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। বলা হয়েছিল চাকরি হবে। এখন বলছে তালিকায় নাম নেই। টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো মামলার ভয় দেখাচ্ছে।”

শামসুন্নাহার বলেন, “নারী হিসেবে আমরা আরও বেশি বিপদে আছি। চাকরির জন্য ধারদেনা করেছি। এখন পরিবারে যেতে পারছি না, সমাজেও মুখ দেখাতে পারছি না।”

ফাতেমা বলেন, “হাসপাতালের মতো মানবসেবার জায়গায় যদি এমন ঘুষ চলে, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে?”

ইমরান, সুরাইয়া, শুকলা, রাজীবসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও একই অভিযোগ তুলে ধরে অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল, ঘুষ লেনদেনের সুষ্ঠু তদন্ত, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং যারা টাকা দিয়েও চাকরি পাননি, তাদের পুনর্বহালের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, “একদিকে আমরা বছরের পর বছর কাজ করেও আজ বঞ্চিত, অন্যদিকে নতুনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই ঘুষ বানিজ্য সরাসরি পরিচালক মাহবুবুর রহমান স্বপন, ঢাকার কোম্পানি গাউছিয়া, কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি মোশারফ হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান, যুবলীগ নেতা সফিকুল, হাসপাতালের কর্মচারী নয়ন জড়িত বলে জানান বক্তারা। এটি চরম অবিচার ও দুর্নীতি।”

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতির সুষ্ঠ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে চাকরিরত কর্মীদের পুনর্বহালের দাবি জানান।

তাদের এই বক্তব্যে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকবৃন্দ।

এ ব্যাপারে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক মাহবুবুর রহমান স্বপনকে বার বার ফোন দেওয়ার পরেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।