তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র গ্রাহক-ব্যাংক কর্মকর্তার হাতাহাতি, উভয়ই আহত, ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা
- আপডেট সময়ঃ ১২:২০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ১০৫ বার পড়া হয়েছে।
আজ সোমবার (৩ নভেম্বর) ব্রাক ব্যাংক সুনামগঞ্জ শাখার সামনের রাস্তায় একজন গ্রাহকের সাথে ব্যাংক কর্মকর্তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা ও গ্রাহক উভয়ই আহত হয়েছেন।
ব্যাংক কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার সুত্রপাত গতকাল রবিবার গ্রাহক উনার স্ত্রী-র ক্রেডিট কার্ডের বিল জমা দিতে গেলে, ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রাহকের সাথে অসদাচরণ করেন। গ্রাহক সাথে সাথে ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ জানান। গ্রাহকের স্ত্রী ব্যাংক কতৃপক্ষের নিকট ই-মেইলের মাধ্যমেও অভিযোগ জানান।
আজ সকালে ০৯.৪০ মিনিটের দিকে গ্রাহক একটি দোকানে যাওয়ার সময় ব্যাংক কর্মকর্তা মোটরসাইকেল থামালে পুনরায় গ্রাহকের সাথে কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির পর্যায়ে চলে গেলে উভয়ই আহত হয়।
ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম সোহাগ দাবী করেন, গ্রাহক ওমর গণি’র সঙ্গে বেলায়েত হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি ব্যাংকে উপস্থিত সবার সামনে মিটমাট করা হয়েছে। সোমবার সকালে ব্যাংকে ঢুকার সময় ভবনের নীচে বেলায়েত হোসেনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি চুরিকাঘাত করা হয়। এসময় নগদ ৮২ হাজার টাকা, ভল্টের চাবি ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর সাড়ে ৩ ঘন্টা লেনদেন বন্ধ থাকার পরে সোনালী ব্যাংক থেকে ভল্টের চাবি এনে লেনদেন চালু করা হয়। এ বিষয়ে হামলাকারীদের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।
গ্রাহক ওমরগণি বললেন, ক্রেডিট কার্ডের বিল জমা দিতে গিয়েছিলাম। টাকা গ্রহণে সিরিয়েল মেন্টেইন না করে স্বজনপ্রীতি দেখে প্রতিবাদ করি। পরে ক্যাশিয়ার আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এক পর্যায়ে লাটি হাতে তেড়ে আসেন। এসময় ব্যাংকে উপস্থিত অন্যান্য গ্রাহকেরা তাকে নিবৃত্ত করতে গেলে আরো উত্তেজিত হয়ে যায়, পরে ব্যবস্থাপক এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। সন্ধ্যায় দুজনে কথা বলে বিষয়টি মিটমাট করার কথাও বলেন ব্যবস্থাপক। সোমবার সকালে বেলায়েত ফোন দেন আমাকে, আমি তার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন বোধ করি নি। এরপর সাড়ে নয়টার দিকে ফুলকলি-র শো-রুমে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল থামিয়ে তিনি উসকানি দিয়ে কথা বলেন। শেষে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। গত দিনের ঘটনাও ব্যাংকের সিসি ক্যামেরা চেক করার দাবিও করলেন ওমরগণি। তিনি আরো বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তা বর্তমানে এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করছেন এবং অপপ্রচারও চালাচ্ছেন। একজন গ্রাহকের সাথে ব্যাংক কর্মকর্তার এমন আচরণ কখনোই কাম্য নয়।
ব্যাংক কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেনের ভাই অ্যাড. কামাল হোসেন জানান, ওমরগণি তার সহযোগী আরপিননগর এলাকার বাসিন্দা শিমুল ও জনিসহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।
সুনামগঞ্জ সদর থানায় ওসি আবুল কালাম বললেন, ঘটনার খবর শুনে পুলিশ ব্যাংকে গিয়েছিল। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ক্যাশিয়ারের উপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হবে।











