ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা নিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুমকি, উত্তেজনা
- আপডেট সময়ঃ ০৮:১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার চারপাশের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কারাকাস।
দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর মধ্যে শনিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ বলে আখ্যা দেয়। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনেজুয়েলা তার আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব ক্ষণ্ন করার এই ঔপনিবেশিক হুমকির নিন্দা জানাচ্ছে। এটি ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে আরেকটি অযৌক্তিক, অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য আগ্রাসন।
শনিবার সকালে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন- সব এয়ারলাইন, পাইলট, মাদক ব্যবসায়ী এবং মানব পাচারকারীদের উদ্দেশে বলছি, ভেনেজুয়েলার উপরে ও চারপাশের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হিসেবে বিবেচনা করুন।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময় এলো যখন মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য করে তীব্র বক্তব্য দিয়ে আসছেন। ওয়াশিংটন দাবি করছে, তারা মাদক চোরাচালান দমনে ভেনেজুয়েলাকে টার্গেট করছে। তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হোয়াইট হাউস আসলে মাদুরোকে বেআইনিভাবে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে এবং মাদক পরিবহনের অভিযোগে কয়েকটি নৌযানে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। যা জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের ভাষায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। এ সপ্তাহেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে শিগগিরই স্থলপথেও ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে মাদুরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ভেনেজুয়েলা ভয় পাবে না। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন দেশটিতে হস্তক্ষেপের জন্য মিথ্যা অজুহাত তৈরি করছে। আল জাজিরার লুসিয়া নিউম্যান জানান, ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের আগেই মাদুরো এ অভিযোগ করেছিলেন।
নিউম্যান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরো সরকারের ওপর পদ্ধতিগতভাবে চাপ বাড়াচ্ছে। গত আগস্টে ওয়াশিংটন মাদুরোর গ্রেপ্তারের জন্য তথ্য দিলে ৫ কোটি ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দেয়। যা আগের অংকের দ্বিগুণ।
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত কার্টেল দে লস সোলেসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবেও ঘোষণা করেছে। ভেনেজুয়েলানরা ১৯৯০-এর দশকে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের বোঝাতে ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ শব্দটি ব্যবহার শুরু করেন। যারা মাদক ব্যবসা করে ধনী হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মাদুরোর সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও খবর প্রকাশিত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে ট্রাম্প মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও বর্তমানে এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।
নিউম্যানের ভাষায়, ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে ট্রাম্পের অবস্থান কখনো উত্তপ্ত, কখনো শীতল- অর্থাৎ দোদুল্যমান। তিনি বলেন, আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা কাগজে-কলমে অবশ্যই একটি বড় ধরনের উত্তেজনা বাড়ানো পদক্ষেপ, তবে যুক্তরাষ্ট্র সত্যি সত্যি সামরিক হামলায় যাবে কিনা সেই শঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড়।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। বিভিন্ন দেশ ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলোও এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাদের ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের সমাধান কেবলমাত্র আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সম্ভব। তারা মনে করেন, শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। এদিকে, ভেনেজুয়েলার জনগণও শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশায় রয়েছে এবং তারা চায় যেন তাদের দেশ আবারও উন্নতির পথে এগিয়ে যায়।
বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে, ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।
তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন











