গোয়ার নাইটক্লাবে আগুন, পর্যটকসহ ২৫ মৃত্যু
- আপডেট সময়ঃ ১২:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৫৮ বার পড়া হয়েছে।
ভারতের গোয়া’তে একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন। তাদেরকে গোয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৪ জন পর্যটক। ১৪ জন কর্মচারী। বাকি ৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, গোয়ার উত্তরাঞ্চলে আরপোরায় জনপ্রিয় এই নাইটক্লাবের নাম ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’। সেখানে শনিবার দিবাগত রাতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বেশির ভাগই ধোয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন। প্রথমে সন্দেহ করা হয় রান্নাঘরের পাশে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত। কিন্তু গোয়া পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজিপি) পরিদর্শনের পর জানান, সিলিন্ডারগুলো অক্ষত ছিল। অর্থাৎ আগুনের উৎস অন্য কিছু। তবে বিস্ফোরণ এত শক্তিশালী ছিল যে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ভবন আগুনে ভস্মীভূত হতে শুরু করে। ফলে পালানোর সময়ই পাননি অনেকে।

রাতভর উদ্ধারকাজ চলে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আহতদের সঠিক সংখ্যা ও অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ডিজিপি জানিয়েছেন, ক্লাবটির ফায়ার সেফটি, গ্যাস সংযোগ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথের মানদণ্ড মেনে চলা হয়েছিল কি না- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য বলছে, ক্লাবটি দমকল বিধি পুরোপুরি মানেনি। ক্লাবটি আপাতত সিলগালা করা হয়েছে এবং মালিকপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বিজেপি এমএলএ মাইকেল লোবো জানান, বেশিরভাগ নিহতই ক্লাবের বেজমেন্টে কাজ করা স্থানীয় কর্মী। আতঙ্কে অনেকেই বেজমেন্টের দিকে ছুটে গিয়ে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে মারা যান। এতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু, গোয়ার মুখ্যতন্ত্রী ড. প্রমোদ সাওয়ান্ত। সাওয়ান্ত দিনটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট মুর্মু বলেন, উত্তর গোয়ার এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানিতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে বর্ণনা করে শোকপ্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও ঘোষণা করেন, নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি, আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে দেয়া হবে।
গৃহায়ন বিষয়ক মন্ত্রী অমিত শাহ এ ঘটনাকে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক প্রাণহানি বলে উল্লেখ করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানান। ওড়িশার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পিযুস গোয়ালও শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
এদিকে, গোয়ার স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ক্লাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা পরীক্ষা করবে। এছাড়া, আহতদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা দ্রুত সেবা প্রদান নিশ্চিত করবে।
গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী ড. প্রমোদ সাওয়ান্ত জানিয়েছেন যে, এই ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দমকল বিভাগকে নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের মধ্যে এই ঘটনার পর আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। প্রশাসন তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
গোয়া একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এই ধরনের ঘটনা পর্যটন শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছেন।
তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন











