৬ নং ওয়ার্ডের বরাদ্দের তথ্য চাইলেন আমির হোসেন
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় তথ্য অধিকার আইনে আবেদন; ত্রাণ ও সরকারি বরাদ্দ নিয়ে ধোঁয়াশা
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৩৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের আরপিন নগর ও জামতলা এলাকায় সরকারি ত্রাণ ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আসা ভিজিএফ, ভিজিডি কার্ড এবং নগদ অর্থ সহায়তা প্রকৃত অভাবীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা বিরাজ করছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারি সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’-এর দ্বারস্থ হয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও আসন্ন পৌর নির্বাচনের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আমির হোসেন।
রোববার (১৫ মার্চ) সকালে সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনের মাধ্যমে তিনি ৬ নং ওয়ার্ডের সরকারি বরাদ্দ ও উপকারভোগীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা যাচনা করেন। এই উদ্যোগটি স্থানীয় রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সরেজমিনে আরপিন নগর ও জামতলা এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অনেক ভূমিহীন ও অতিদরিদ্র পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন সহায়তা আসলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত দুস্থরা তালিকার বাইরে থেকে যান। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতির কারণে স্বচ্ছল ব্যক্তিরা সরকারি কার্ড বা ত্রাণ সুবিধা পেয়ে থাকেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
আমির হোসেন তার আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে এলাকার দরিদ্র মানুষ চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
আবেদনকারী আমির হোসেনের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬ নং ওয়ার্ডের জন্য কী পরিমাণ বরাদ্দ এসেছে এবং তা কোন নীতিমালার ভিত্তিতে বিতরণ করা হয়েছে, সেটি জনসমক্ষে আসা জরুরি।
তিনি তার আবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন—কতজন অসহায় মানুষ এ পর্যন্ত সহায়তা পেয়েছেন এবং তাদের নাম-ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি কী? মূলত বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না বা কোনো বিশেষ প্রক্রিয়ায় তালিকা তৈরি করা হয়েছে, সেই বিষয়েও তিনি প্রশাসনের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর আমির হোসেন দৈনিক হক বার্তা-কে বলেন, “আমরা চাই সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি পয়সা এবং প্রতিটি দানার সঠিক হিসাব জনগণের সামনে থাকুক। তথ্য গোপন রাখলে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আসা সরকারি সহায়তা কারা পাচ্ছেন তা জানার আইনি অধিকার আমাদের সবার আছে।”
’তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী, কোনো নাগরিক যদি জনস্বার্থে কোনো তথ্য যাচনা করেন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সরবরাহ করতে আইনত বাধ্য। সুনামগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে আবেদনটি গ্রহণ করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন দেখার বিষয়, আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌর প্রশাসন এই তথ্যগুলো সরবরাহ করে কি না। যদি স্বচ্ছ তালিকা প্রদান করা হয়, তবে বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা সহজেই ধরা পড়বে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য অধিকার আইনের এমন প্রয়োগ অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি কেবল ৬ নং ওয়ার্ড নয়, বরং পুরো পৌরসভার ত্রাণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সহায়ক হবে।
যদি উপকারভোগীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়, তবে আগামীতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে সুবিধা নিতে ভয় পাবে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন। তথ্যের এই উন্মোচন কেবল দুর্নীতির পথই বন্ধ করবে না, বরং প্রকৃত দুস্থদের মুখে হাসি ফোটাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





















