০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্পের আকস্মিক পিছুহটা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: মার্কিন-ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ইরানের বড় হামলাঃ

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদ আর উত্তেজনায় থমথমে। একদিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা।

অন্যদিকে ঠিক সেই মুহূর্তেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিতের ঘোষণা- সব মিলিয়ে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি। 

একযোগে ৭৬টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তেহরান জানান দিয়েছে তাদের সামরিক সক্ষমতার কথা, যার রেশ ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ধস।

‎সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, আল-ধাফরা, ভিক্টোরিয়া, পঞ্চম নৌবহর এবং কিং সুলতান নামক মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে গুঁড়িয়ে দিতে তারা ব্যবহার করেছে অত্যাধুনিক ‘কিয়াম’ (তরল জ্বালানি) এবং ‘জুলফিকার’ (সলিড জ্বালানি) ক্ষেপণাস্ত্র। হামলার তালিকায় বাদ পড়েনি ইসরায়েলি ভূখণ্ডও।

তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল আবিব, হাইফা, আশকেলন ও গুশ দান শহরের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে তারা ভারী ‘খায়বার-শেকান’ ও ‘কিয়াম’ ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করেছে। শত্রুর সামরিক শক্তি খর্ব করার লক্ষ্যেই এই ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

‎রণক্ষেত্রে যখন পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন থেকে এলো এক বিস্ময়কর ঘোষণা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ স্যোশাল’-এ জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য সামরিক হামলা আপাতত ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, গত দুই দিনে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ‘ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনা নিরসনের পথ খুঁজতে দুই দেশই ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চলমান এই আলোচনার চূড়ান্ত সাফল্যের ওপরই নির্ভর করছে সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার বিষয়টি।

‎এই উত্তেজনার মূলে রয়েছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’। এর আগে শনিবার ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি এই প্রণালিটি সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে না দেয়, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

 

‎জবাবে ইরানও কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের উপকূলে কোনো হামলা হলে তারা সমুদ্রপথে মাইন পেতে এই পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। এছাড়া আইআরজিসি পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে যে, মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তাদের রাডারে রয়েছে।

‎মার্কিন প্রেসিডেন্টের হামলা স্থগিতের ঘোষণার প্রভাব পড়েছে সরাসরি আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। কয়েক দিন ধরে যুদ্ধের আশঙ্কায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও সোমবার তা হু হু করে কমতে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বা ১৭ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল এখন ৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও ১৩.৫ শতাংশ কমে ৮৫.২৮ ডলারে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের আলোচনার টেবিলে ফেরার সংকেত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে, যার ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে।

‎বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় পুরো পৃথিবীর নজর এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

কূটনৈতিক এই তৎপরতা শেষ পর্যন্ত স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

‎তথ্যসহায়তাঃচ্যানেল24

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ট্রাম্পের আকস্মিক পিছুহটা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: মার্কিন-ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ইরানের বড় হামলাঃ

আপডেট সময়ঃ ০৯:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদ আর উত্তেজনায় থমথমে। একদিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা।

অন্যদিকে ঠিক সেই মুহূর্তেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিতের ঘোষণা- সব মিলিয়ে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি। 

একযোগে ৭৬টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তেহরান জানান দিয়েছে তাদের সামরিক সক্ষমতার কথা, যার রেশ ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ধস।

‎সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, আল-ধাফরা, ভিক্টোরিয়া, পঞ্চম নৌবহর এবং কিং সুলতান নামক মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে গুঁড়িয়ে দিতে তারা ব্যবহার করেছে অত্যাধুনিক ‘কিয়াম’ (তরল জ্বালানি) এবং ‘জুলফিকার’ (সলিড জ্বালানি) ক্ষেপণাস্ত্র। হামলার তালিকায় বাদ পড়েনি ইসরায়েলি ভূখণ্ডও।

তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল আবিব, হাইফা, আশকেলন ও গুশ দান শহরের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে তারা ভারী ‘খায়বার-শেকান’ ও ‘কিয়াম’ ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করেছে। শত্রুর সামরিক শক্তি খর্ব করার লক্ষ্যেই এই ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

‎রণক্ষেত্রে যখন পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন থেকে এলো এক বিস্ময়কর ঘোষণা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ স্যোশাল’-এ জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য সামরিক হামলা আপাতত ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, গত দুই দিনে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ‘ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনা নিরসনের পথ খুঁজতে দুই দেশই ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চলমান এই আলোচনার চূড়ান্ত সাফল্যের ওপরই নির্ভর করছে সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার বিষয়টি।

‎এই উত্তেজনার মূলে রয়েছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’। এর আগে শনিবার ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি এই প্রণালিটি সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে না দেয়, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

 

‎জবাবে ইরানও কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের উপকূলে কোনো হামলা হলে তারা সমুদ্রপথে মাইন পেতে এই পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। এছাড়া আইআরজিসি পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে যে, মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তাদের রাডারে রয়েছে।

‎মার্কিন প্রেসিডেন্টের হামলা স্থগিতের ঘোষণার প্রভাব পড়েছে সরাসরি আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। কয়েক দিন ধরে যুদ্ধের আশঙ্কায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও সোমবার তা হু হু করে কমতে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বা ১৭ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল এখন ৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও ১৩.৫ শতাংশ কমে ৮৫.২৮ ডলারে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের আলোচনার টেবিলে ফেরার সংকেত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে, যার ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে।

‎বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় পুরো পৃথিবীর নজর এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

কূটনৈতিক এই তৎপরতা শেষ পর্যন্ত স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

‎তথ্যসহায়তাঃচ্যানেল24