জুলাই ৩৬
দুই হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ
- আপডেট সময়ঃ ১০:০০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
- / ১ বার পড়া হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানা এলাকায় পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম পুলিশের পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হলেও দুপুরের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়। শুনানিকালে তাকে কাঠগড়ায় অত্যন্ত নিশ্চুপ ও বিমর্ষ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা মাদ্রাসা ছাত্র মো. আরিফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসান এবং গত ২৯ এপ্রিল আদাবর থানায় দায়ের করা গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান আসামিকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।
শুনানির শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি আদালতকে বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক এসব মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি।
তিনি প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন বিচার বিভাগকে নজিরবিহীনভাবে দলীয়করণ করেছেন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে সরাসরি সহায়তা করেছেন। পিপি আরও অভিযোগ করেন, সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে তিনি এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণের মূল কারিগর হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।
যার ফলশ্রুতিতে গত বছরের আন্দোলনে অসংখ্য মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, খায়রুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি শুনানিতে দাবি করেন, তার মক্কেল একজন ৮১ বছর বয়সী বৃদ্ধ এবং তিনি ‘জুডিশিয়াল মব’ সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন।
আইনজীবী উল্লেখ করেন, গত ৫ মার্চ খায়রুল হক পাঁচটি মামলায় জামিন পেলেও কারাগার থেকে বের হওয়ার আগেই তাকে নতুন করে এসব হত্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে তিনি কারাগারে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য।
উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক মো. জামসেদ আলম জানান যে,
“এই পর্যায়ে আদালত শুধুমাত্র গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করছে, জামিন বিষয়ে নয়। এরপর তিনি আসামি খায়রুল হককে পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন এবং আসামিপক্ষের জামিন আবেদনটি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।”
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে লর্ড হার্ডিঞ্জ মাদ্রাসার ছাত্র মো. আরিফ নিহত হন।
এই ঘটনায় ২৬ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। অন্যদিকে, ৫ আগস্ট আদাবর রিংরোড এলাকায় ছাত্র-জনতার প্রতিবাদী মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় গার্মেন্টস কর্মী মো. রুবেল নিহত হন। এই ঘটনায় ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই এ বি এম খায়রুল হক বিভিন্ন মামলায় কারান্তরীণ রয়েছেন।
তথ্যসহায়তাঃঢাকাপোস্ট




















