মিরপুরে বৃদ্ধা মায়ের অবহেলা ও মৃত্যু:
মংলা বন্দর থেকে প্রত্যাহার হলেন যুগ্ম সচিব ছেলে
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / ১২ বার পড়া হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নূর জাহান বেগমের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরকারি পর্যায়ে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
মৃত বৃদ্ধার ছেলে, সরকারের যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। তিনি মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেনীভা শাহীন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (সংযুক্ত) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, তাকে আগামী ৪ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেলের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১ মে। ওইদিন রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের একটি বাসা থেকে নূর জাহান বেগমের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ঘরে পড়ে থাকায় মরদেহটিতে পচন ধরেছিল এবং পোকার উপস্থিতি দেখা যায়। অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে ওই বাসায় মেয়ের সাথেই বসবাস করতেন এই বৃদ্ধা। স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়ার পর বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
সন্তানেরা সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ও উচ্চপদস্থ অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও একজন বৃদ্ধা মায়ের এমন করুণ ও নির্মম পরিণতি সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।
এই অমানবিক ঘটনাটি সামনে আসার পর দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৩ সালের ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’। এই আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানের জন্য পিতা-মাতার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখাসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করা বাধ্যতামূলক।
কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালন করবেন—এমন বিধান থাকলেও এই ঘটনার ক্ষেত্রে তার চরম লঙ্ঘন লক্ষ্য করা গেছে, যা সমাজ ও প্রশাসনের উচ্চ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
#JN










