বালু ব্যবসায় বিএনপি-আ.লীগের মিল, নদী-ছড়ায় অবাধ উত্তোলন
- আপডেট সময়ঃ ০১:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪৬ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারা দেশের বিভিন্ন নদ-নদী, পাহাড়ি ছড়া ও জলাশয় থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বালু জব্দ ও জরিমানার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অনেক এলাকায় থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ কর্মকাণ্ড।
একসময় বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের প্রভাবের অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কোথাও কোথাও বিএনপি ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের পারস্পরিক যোগসাজশে বালু উত্তোলন ও বেচাকেনা চলছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে নদী ও ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ, কৃষিজমি, পরিবেশ এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া, নদী ও কৃষিজমি থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের অভিযান, মামলা ও জরিমানার পরও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলনের কারণে পাহাড়ি ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিজমির ক্ষয়, গ্রামীণ সড়কের ক্ষতি এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অবৈধভাবে উত্তোলিত বালুর কারণে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বালুমহালগুলো দ্রুত ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের বিলাশছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করা প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে জব্দ করা বালু স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিনহাজুল ইসলাম বলেন, জব্দ করা বালুর বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার এওলাছড়া থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি চক্র ছড়ার বিভিন্ন স্থান থেকে বালু তুলে তা বিক্রি করছে।
মনিপুর চা-বাগানের পাশ দিয়ে প্রবাহিত এওলাছড়া ২ নম্বর ইউনিয়নের পুরান বাজার, নিজামপুর পালবাড়ী হয়ে কুশিয়ারা নদীতে গিয়ে মিশেছে। ছড়াটির কয়েকটি স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে এ ছড়াটি বালুমহাল হিসেবে ইজারা দেওয়া হতো। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর খনিজ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ছড়াটিতে খনিজ পদার্থ থাকার বিষয়টি জানানো হয়। এরপর ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারা বাতিলের পর দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি মহল ছড়াটি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি তাদের।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহার বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জে বালুমহাল আছে—এমন তথ্য তাকে কেউ জানায়নি। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শনে যাবেন। কেউ বেআইনিভাবে কোনো ছড়া থেকে বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদী ও ছড়ার তলদেশের স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তনের পাশাপাশি পানির প্রবাহে পরিবর্তন, তীরভাঙন এবং কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বালুবাহী যানবাহনের অবাধ চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়কও।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা এবং বালুমহাল ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।



















