০৮:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হঠাৎ অচল, সারা দেশে বাড়ল লোডশেডিং

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১২ বার পড়া হয়েছে।

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

আদানির ইউনিট ও আরএনপিএলের বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, দেশে ফের তীব্র লোডশেডিং;

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় আবারও বেড়েছে লোডশেডিং। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় গ্রিডে নতুন করে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে আগে থেকে থাকা উৎপাদন ঘাটতি ও বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি সমস্যাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

 

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই সময়ে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট।

 

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দিনের সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট কম। ফলে সন্ধ্যা ও রাতের দিকে চাহিদা বাড়লে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

একসঙ্গে দুই কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ ;

বিদ্যুতের হঠাৎ ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সেটি দ্রুত মেরামত করে উৎপাদনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

 

একই সময়ে দেশের আরেকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুটি ইউনিট একসঙ্গে বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে নতুন করে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

পিডিবির এই কর্মকর্তা জানান, নতুন করে তৈরি হওয়া এই ঘাটতির পাশাপাশি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় আগে থেকেই থাকা বিভিন্ন সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

 

কমেছে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন;

জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (এলএনডিসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন হঠাৎ ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

 

একই সময়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনও কমেছে। এক দিন আগে এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও বুধবার রাতে তা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াটে।

এর বাইরে কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও কারিগরি ত্রুটি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে অথবা সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

 

কারিগরি ত্রুটি ও গ্যাস-সংকটেও কমছে উৎপাদন;

আশুগঞ্জে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এক দিন আগেও ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে।

 

এ ছাড়া গ্যাসের সরবরাহ সংকটের কারণে শুধু ঢাকা অঞ্চলেরই অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে অথবা স্বাভাবিক সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

ফলে একদিকে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, অন্যদিকে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়া—সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি বেড়েছে।

 

শহরে দিনে কয়েক দফা, গ্রামে ৭–১০ ঘণ্টা লোডশেডিং;

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কয়েক সপ্তাহ ধরে তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকা লোডশেডিং আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

 

শহরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দিনে চারবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও নাজুক। এসব এলাকায় দৈনিক ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং ফিরে এসেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

 

বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এবং বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে ফিরতে দেরি হলে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হঠাৎ অচল, সারা দেশে বাড়ল লোডশেডিং

আপডেট সময়ঃ ০৩:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

আদানির ইউনিট ও আরএনপিএলের বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, দেশে ফের তীব্র লোডশেডিং;

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় আবারও বেড়েছে লোডশেডিং। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় গ্রিডে নতুন করে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে আগে থেকে থাকা উৎপাদন ঘাটতি ও বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি সমস্যাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

 

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই সময়ে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট।

 

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দিনের সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট কম। ফলে সন্ধ্যা ও রাতের দিকে চাহিদা বাড়লে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

একসঙ্গে দুই কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ ;

বিদ্যুতের হঠাৎ ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সেটি দ্রুত মেরামত করে উৎপাদনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

 

একই সময়ে দেশের আরেকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুটি ইউনিট একসঙ্গে বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে নতুন করে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

পিডিবির এই কর্মকর্তা জানান, নতুন করে তৈরি হওয়া এই ঘাটতির পাশাপাশি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় আগে থেকেই থাকা বিভিন্ন সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

 

কমেছে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন;

জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (এলএনডিসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন হঠাৎ ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

 

একই সময়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনও কমেছে। এক দিন আগে এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও বুধবার রাতে তা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াটে।

এর বাইরে কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও কারিগরি ত্রুটি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে অথবা সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

 

কারিগরি ত্রুটি ও গ্যাস-সংকটেও কমছে উৎপাদন;

আশুগঞ্জে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এক দিন আগেও ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে।

 

এ ছাড়া গ্যাসের সরবরাহ সংকটের কারণে শুধু ঢাকা অঞ্চলেরই অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে অথবা স্বাভাবিক সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

ফলে একদিকে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, অন্যদিকে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়া—সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি বেড়েছে।

 

শহরে দিনে কয়েক দফা, গ্রামে ৭–১০ ঘণ্টা লোডশেডিং;

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কয়েক সপ্তাহ ধরে তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকা লোডশেডিং আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

 

শহরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দিনে চারবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও নাজুক। এসব এলাকায় দৈনিক ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং ফিরে এসেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

 

বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এবং বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে ফিরতে দেরি হলে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।