১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদাবাজি বন্ধ করায় প্রাণনাশের হুমকি, নিরাপত্তা চাইলেন বিএনপি নেতা

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৪১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে।

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মান্নান হোসেন শাহীন। এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

 

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে শাহীন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। ওই সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন মহল্লায় পাহারার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করতে মাইকিংও করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

 

শাহীন অভিযোগ করেন, এর জের ধরে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চাঁদ উদ্যানের ২ নম্বর রোডের শাপলা ভবনের নিচতলায় বাড়ি মালিক কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলে দাবি করেন।

 

তার ভাষ্য, হামলায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৪২টি কোপ দেওয়া হয় এবং হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। তিনি ৩৭ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং প্রায় সাত মাস হাসপাতালে কাটানোর পর বাড়ি ফেরেন। এখনও স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে না পারলেও রাজনীতির প্রতি আগ্রহ থেকে আবারও মাঠে সক্রিয় হয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

শাহীন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই একটি মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। তার দাবি, তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন—এ আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘‘জীবনের ঝুঁকি থাকলেও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের যেখানেই চাঁদা নেওয়ার খবর পাই, সেখানেই গিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করি।’’

 

সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে চাঁদ উদ্যানের ৬ নম্বর রোডে সুয়ারেজ লাইনের কাজ করাতে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে সেখানে যান বলে জানান শাহীন। তার অভিযোগ, ওই সময় মো. নান্নু, নুরুল ইসলাম, হান্নান ও সেন্টুসহ ১৫ থেকে ২০ জন সেখানে ছিলেন।

 

চাঁদা দাবির বিরোধিতা করায় তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা জিসান আহমেদ হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে ডান হাতে গুরুতর আঘাত পান বলে জানান শাহীন। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

 

তবে শাহীন অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে একটি চক্র তাকে চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘‘একবার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছি। এখন আবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে। এই হুমকির কারণে আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।’’

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মো. মান্নান হোসেন শাহীন।

 

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

চাঁদাবাজি বন্ধ করায় প্রাণনাশের হুমকি, নিরাপত্তা চাইলেন বিএনপি নেতা

আপডেট সময়ঃ ০৯:৪১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মান্নান হোসেন শাহীন। এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

 

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে শাহীন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। ওই সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন মহল্লায় পাহারার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করতে মাইকিংও করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

 

শাহীন অভিযোগ করেন, এর জের ধরে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চাঁদ উদ্যানের ২ নম্বর রোডের শাপলা ভবনের নিচতলায় বাড়ি মালিক কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলে দাবি করেন।

 

তার ভাষ্য, হামলায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৪২টি কোপ দেওয়া হয় এবং হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। তিনি ৩৭ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং প্রায় সাত মাস হাসপাতালে কাটানোর পর বাড়ি ফেরেন। এখনও স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে না পারলেও রাজনীতির প্রতি আগ্রহ থেকে আবারও মাঠে সক্রিয় হয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

শাহীন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই একটি মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। তার দাবি, তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন—এ আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘‘জীবনের ঝুঁকি থাকলেও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের যেখানেই চাঁদা নেওয়ার খবর পাই, সেখানেই গিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করি।’’

 

সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে চাঁদ উদ্যানের ৬ নম্বর রোডে সুয়ারেজ লাইনের কাজ করাতে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে সেখানে যান বলে জানান শাহীন। তার অভিযোগ, ওই সময় মো. নান্নু, নুরুল ইসলাম, হান্নান ও সেন্টুসহ ১৫ থেকে ২০ জন সেখানে ছিলেন।

 

চাঁদা দাবির বিরোধিতা করায় তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা জিসান আহমেদ হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে ডান হাতে গুরুতর আঘাত পান বলে জানান শাহীন। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

 

তবে শাহীন অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে একটি চক্র তাকে চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘‘একবার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছি। এখন আবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে। এই হুমকির কারণে আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।’’

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মো. মান্নান হোসেন শাহীন।

 

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।