জুমার খুতবায় (শেখ হাসিনাকে)‘স্বৈরাচার’ মন্তব্য: নান্দাইলে মসজিদের খতিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি;
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / ২৮ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ০১ নভেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার বাইতুল মাহফুজ পুরাবাড়িয়া মোড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোজাহিদুল ইসলামকে জুমার খুতবায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করার অভিযোগে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে এই অব্যাহতি দেওয়া হয়।
স্থানীয় ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ অক্টোবর জুমার খুতবায় ‘মূর্তি ও ভাস্কর্যের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং তা থেকে মুসলমানদের উত্তরণ’ বিষয়ে বয়ান দেন খতিব মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম। বয়ানের একপর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলে মন্তব্য করেন। এই বক্তব্যটি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় মুসল্লিদের প্রতিক্রিয়া;
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা আ. হক ও সোলাইমান মিয়ার মতো সচেতন মুসল্লিরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, খতিবের মূল দায়িত্ব ধর্মীয় বিধান ও সত্য তুলে ধরা। এই বক্তব্যে কারও আপত্তি বা দ্বিমত থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। কিন্তু কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়াটা সমীচীন হয়নি।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত খতিবের বক্তব্য;
অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। ওই দিন খুতবায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনার অংশ হিসেবে প্রাসঙ্গিক উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মসজিদ কমিটির সভাপতি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই তাকে আকস্মিক ও অন্যায়ভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মসজিদ কমিটির বক্তব্য;
অন্যদিকে, খতিবের আনীত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ফেরদৌস ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেন, মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম রাজনৈতিকভাবে জামায়াতপন্থি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তার দাবি অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে এক ছাত্রদল নেতা মসজিদে এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত ও সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া করতে বললেও খতিব তা করতে অস্বীকৃতি জানান। এ ছাড়া নিয়মিত মসজিদে রাজনৈতিক আলোচনা করা এবং সর্বশেষ খুতবায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিভিন্ন শৃঙ্খলাবহির্ভূত বিষয় ও মুসল্লিদের আপত্তির মুখে কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।














