৪০ কোটির প্রকল্পে ব্যয় ৮৭ কোটি, ৩৮ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ: ৫ দফা দাবিতে -জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময়ঃ ০৩:১৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ৩৮ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ০২ নভেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর ব্রিজ ও ৫ কিলোমিটার সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে সাব-ঠিকাদারের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এবং সদস্য (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হক।
প্রকল্পে হরিলুট ও অনিয়মের চিত্র;
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর ব্রিজ (১ ও ২ নম্বর) এবং প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার কাজ চলছে।
মূলত ঢাকার প্রতিষ্ঠান ‘ইসলাম ট্রেডার্সের’ স্বত্বাধিকারী বদরুল ইসলাম এই কাজের ঠিকাদার ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আজাদ হোসেন এবং পরবর্তীতে তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বহু মামলার আসামি আরেক আওয়ামী নেতা শফিকুল ইসলামকে সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, বাস্তবে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্পের বিপরীতে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখিয়ে ওভার-এস্টিমেট (অতিরিক্ত প্রাক্কলন) করা হয়েছে। যেখানে মাত্র ৭ লাখ ঘনফুট মাটির প্রয়োজন, সেখানে ৫৬ লাখ ঘনফুট মাটি দেখানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা বিল তুলে লুটপাট করা হয়েছে এবং জনসম্মুখে প্রকল্পের কোনো সাইনবোর্ড পর্যন্ত প্রদর্শন করা হয়নি।
এমপির পরিদর্শনের পরই ‘তথ্য সন্ত্রাস’ ও ষড়যন্ত্র;
ঘটনার বিবরণ দিয়ে জেলা বিএনপি জানায়, গত ২৭ অক্টোবর বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও হাইস্কুলের একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে স্থানীয় জনতা সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুলকে থামিয়ে কাজের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন। পরে এমপি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান— সদ্য নির্মিত গার্ডওয়াল একদিকে হেলে পড়েছে, কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, মাটি কম্পেকশন ছাড়াই জিও টেক্সটাইলের ওপর ব্লক বসানো হয়েছে এবং ভিটবালুর পরিবর্তে কৃষি জমির টপ সয়েল ব্যবহার করা হয়েছে।
এমপি মহোদয় পরদিন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সাইট পরিদর্শনের ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এমপির বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও বানোয়াট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিএনপি এই ঘটনাকে একটি ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও তথ্য সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানায়।
জেলা বিএনপির ৫ দফা দাবি;
সংবাদ সম্মেলনে জনস্বার্থে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. দুর্নীতির এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।
২. ওভার-ভ্যালু দেখিয়ে আত্মসাৎ বা অতিরিক্ত দেখানো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনা।
৩. নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ কাজ বাতিল করে মানসম্পন্ন সামগ্রী ব্যবহার করে পুনরায় কাজ সম্পন্ন করা।
৪. দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলাকারী সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চলমান সকল কাজের দুর্নীতি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা নাদের আহমেদ, আকবর আলী, আ.ত.ম মিসবাহ, রেজাউল হক, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী প্রমুখ।














