০৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধের রিট হাইকোর্টে খারিজ: আপাতত স্বস্তিতে হাজারো শ্রমিক ,,,

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০২:০১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২৬ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০২ নভেম্বর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধের দাবিতে দায়ের করা রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে নদীনির্ভর হাজারো শ্রমিকের জীবিকা ও কর্মসংস্থান আপাতত সুরক্ষিত রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

আদালত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন তাহিরপুর উপজেলার চিকসা গ্রামের বাসিন্দা যুবায়ের ইকবাল নোমান। সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিটটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিট আবেদনটি খারিজ (প্রত্যাখ্যান) করে দেন।

 

শ্রমিক মহলে স্বস্তি, কর্মসংস্থান নিয়ে শঙ্কা দূর;

হাইকোর্টের এই আদেশের পর যাদুকাটা নদীকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহকারী নিম্ন আয়ের ও সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নদী তীরের বাসিন্দারা জানান, এই নদী কেবল একটি প্রাকৃতিক সম্পদই নয়, বরং হাজার হাজার খেটে খাওয়া মানুষের অর্থনৈতিক আয়ের প্রধান উৎস। বালুমহাল বন্ধ হলে চরম খাদ্য সংকট ও বেকারত্বে পড়ার আশঙ্কায় ছিলেন তারা।

 

স্থানীয় শ্রমিক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিল। তাদের এই অপতৎপরতার কারণে নদীনির্ভর অসহায় শ্রমিকদের জীবিকা বারবার হুমকির মুখে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। হাইকোর্টের রায়ে সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

নদীর পরিবেশ ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা;

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যাদুকাটা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি সচল রাখা—উভয় দিকই সমান গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ নিয়ম মেনে ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে তেমনি হাজারো শ্রমিকের পেটেও ভাত জুটবে।

 

আইনগত এই বাধার অবসান ঘটার পর স্থানীয় প্রশাসন ও ইজারাদাররা নিয়মকানুন মেনে বৈধ উপায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা নদীপারের শ্রমজীবী মানুষের।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধের রিট হাইকোর্টে খারিজ: আপাতত স্বস্তিতে হাজারো শ্রমিক ,,,

আপডেট সময়ঃ ০২:০১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০২ নভেম্বর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধের দাবিতে দায়ের করা রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে নদীনির্ভর হাজারো শ্রমিকের জীবিকা ও কর্মসংস্থান আপাতত সুরক্ষিত রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

আদালত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন তাহিরপুর উপজেলার চিকসা গ্রামের বাসিন্দা যুবায়ের ইকবাল নোমান। সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিটটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিট আবেদনটি খারিজ (প্রত্যাখ্যান) করে দেন।

 

শ্রমিক মহলে স্বস্তি, কর্মসংস্থান নিয়ে শঙ্কা দূর;

হাইকোর্টের এই আদেশের পর যাদুকাটা নদীকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহকারী নিম্ন আয়ের ও সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নদী তীরের বাসিন্দারা জানান, এই নদী কেবল একটি প্রাকৃতিক সম্পদই নয়, বরং হাজার হাজার খেটে খাওয়া মানুষের অর্থনৈতিক আয়ের প্রধান উৎস। বালুমহাল বন্ধ হলে চরম খাদ্য সংকট ও বেকারত্বে পড়ার আশঙ্কায় ছিলেন তারা।

 

স্থানীয় শ্রমিক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিল। তাদের এই অপতৎপরতার কারণে নদীনির্ভর অসহায় শ্রমিকদের জীবিকা বারবার হুমকির মুখে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। হাইকোর্টের রায়ে সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

নদীর পরিবেশ ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা;

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যাদুকাটা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি সচল রাখা—উভয় দিকই সমান গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ নিয়ম মেনে ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে তেমনি হাজারো শ্রমিকের পেটেও ভাত জুটবে।

 

আইনগত এই বাধার অবসান ঘটার পর স্থানীয় প্রশাসন ও ইজারাদাররা নিয়মকানুন মেনে বৈধ উপায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা নদীপারের শ্রমজীবী মানুষের।