০৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
প্রাণ হারালেন যুবক, শ্বশুর নিখোঁজ

ঢাকায় ‎সদরঘাটে দুই লঞ্চের রোমহর্ষক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:১৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • / ৫৬ বার পড়া হয়েছে।

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী তোলার সময় দুই লঞ্চের এক ভয়াবহ সংঘর্ষের দুর্ঘটনায় মো. সোহেল (২২) নামে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার বিকেলে সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুনের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। 

এ ঘটনায় সোহেলের শাশুড়ি আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাঁর শ্বশুর মিরাজ ফকির এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার নিয়ে গ্রামে ফেরার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিয়েছে এই দুর্ঘটনায়।

‎ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুনের পাশে ঢাকা–ইলিশা (ভোলা) রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চটি একটি ট্রলার থেকে যাত্রী তুলছিল।

‎ঠিক সেই সময় ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ নামের অপর একটি লঞ্চ দ্রুতগতিতে এসে ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের পেছনের একটি কোণের আঘাতে আসা যাওয়া-৫ লঞ্চের দুই যাত্রী ভয়াবহভাবে পিষ্ট হন। এতে একজন যাত্রী সরাসরি নদীতে ছিটকে পড়েন এবং অন্যজন লঞ্চের বাইরের অংশে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকেন।

 

‎পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সোহেলের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের মেহেন্দিগঞ্জ এলাকায়। ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় নিহত সোহেলের শ্বশুর মিরাজ ফকির এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং শাশুড়ি রুবা ফকির গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

‎ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা শিহাব সরকার জানিয়েছেন, লঞ্চ দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে দুইজন ডুবুরি নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। তবে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও নিখোঁজ মিরাজ ফকিরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত গভীর হওয়ায় এবং উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটায় আপাতত অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।

‎কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দায়ী লঞ্চগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সদরঘাটের নিরাপত্তা ও নিয়মকানুন নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে আবারও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর।

 

 

 

তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রাণ হারালেন যুবক, শ্বশুর নিখোঁজ

ঢাকায় ‎সদরঘাটে দুই লঞ্চের রোমহর্ষক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

আপডেট সময়ঃ ০৯:১৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী তোলার সময় দুই লঞ্চের এক ভয়াবহ সংঘর্ষের দুর্ঘটনায় মো. সোহেল (২২) নামে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার বিকেলে সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুনের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। 

এ ঘটনায় সোহেলের শাশুড়ি আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাঁর শ্বশুর মিরাজ ফকির এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার নিয়ে গ্রামে ফেরার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিয়েছে এই দুর্ঘটনায়।

‎ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুনের পাশে ঢাকা–ইলিশা (ভোলা) রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চটি একটি ট্রলার থেকে যাত্রী তুলছিল।

‎ঠিক সেই সময় ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ নামের অপর একটি লঞ্চ দ্রুতগতিতে এসে ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের পেছনের একটি কোণের আঘাতে আসা যাওয়া-৫ লঞ্চের দুই যাত্রী ভয়াবহভাবে পিষ্ট হন। এতে একজন যাত্রী সরাসরি নদীতে ছিটকে পড়েন এবং অন্যজন লঞ্চের বাইরের অংশে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকেন।

 

‎পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সোহেলের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের মেহেন্দিগঞ্জ এলাকায়। ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় নিহত সোহেলের শ্বশুর মিরাজ ফকির এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং শাশুড়ি রুবা ফকির গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

‎ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা শিহাব সরকার জানিয়েছেন, লঞ্চ দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে দুইজন ডুবুরি নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। তবে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও নিখোঁজ মিরাজ ফকিরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত গভীর হওয়ায় এবং উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটায় আপাতত অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।

‎কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দায়ী লঞ্চগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সদরঘাটের নিরাপত্তা ও নিয়মকানুন নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে আবারও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর।

 

 

 

তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো