০২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

নামজারি পদ্ধতি বাতিল, আর লাগবে না নামজারি; জনসাধারণের ভোগান্তির অবসান

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১০:২১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৫২ বার পড়া হয়েছে।

‎অবশেষে ভূমি মালিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বাতিল করা হচ্ছে বর্তমান নামজারি পদ্ধতি। 

‎এখন থেকে আলাদা করে নামজারির আবেদন করতে হবে না। সরকার বলছে, নতুন স্বয়ংক্রিয় নামজারি (অটোমেশন) প্রক্রিয়ায় দলিল রেজিস্ট্রির সঙ্গেই সম্পন্ন হবে নামজারি।

 

‎ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই ব্যবস্থা ইতোমধ্যে দেশের ৩০টিরও বেশি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন তা সারাদেশে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমি রেজিস্ট্রির সময়ই জমির দাতা ও ক্রেতার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে। দাতা আসল মালিক কিনা, জমিতে কোনো বিরোধ আছে কিনা, জমা-খারিজ বা খতিয়ান হালনাগাদ রয়েছে কিনা-সব কিছুই একসঙ্গে নিশ্চিত করা হবে।

‎এই যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর দলিল রেজিস্ট্রির সঙ্গে সঙ্গেই ভূমি অফিস থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ যাবে, এবং সেই মুহূর্তেই নতুন মালিকের নামে নামজারি হয়ে যাবে। অর্থাৎ, আর আলাদা করে আবেদন বা দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না।

‎ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, এই স্বয়ংক্রিয় নামজারি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও হয়রানির সুযোগ বন্ধ হবে। আগে যেখানে আবেদন, ঘুষ, দেরি ও অস্পষ্টতার কারণে বছর বছর ভোগান্তি চলত, এখন একবার দলিল রেজিস্ট্রি করলেই ভূমি মালিক পাবেন খতিয়ান, হোল্ডিং নম্বর ও খাজনা প্রদানের পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র একসঙ্গে।

‎ভূমি উপদেষ্টা বলেন, “এই বছরের মধ্যেই ভূমি মালিকরা নতুন স্বয়ংক্রিয় নামজারি ব্যবস্থার সুফল পাবেন। এটি কার্যকর হলে নামজারি সংক্রান্ত দুর্নীতি, দেরি ও হয়রানি চিরতরে বন্ধ হবে।”

‎নতুন ব্যবস্থাটি বাস্তবায়িত হলে ভূমি অফিসে নামজারি নিয়ে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা আবেদন ও জনগণের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‎এছাড়াও, নতুন এই পদ্ধতির মাধ্যমে ভূমি মালিকদের জন্য আরও একটি সুবিধা হচ্ছে, তারা অনলাইনে তাদের জমির তথ্য দেখতে এবং যাচাই করতে পারবেন। এটি ভূমি মালিকদের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ভূমি মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, এই উদ্যোগের ফলে ভূমি সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। কারণ, জমির মালিকানা নিয়ে যে জটিলতা ও বিরোধ দেখা দিত, তা এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে অনেকাংশে সমাধান করা সম্ভব হবে।

‎এদিকে, ভূমি মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তারা আশা করছে যে, এই উদ্যোগের ফলে দেশে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। জনগণও এই নতুন ব্যবস্থাকে স্বাগত জানাচ্ছে এবং তারা আশা করছে যে, এটি তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

‎ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে। এতে করে ভূমি অফিসের কর্মীরা নতুন পদ্ধতিতে দক্ষভাবে কাজ করতে পারবেন। সব মিলিয়ে, এই উদ্যোগটি দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

 

 

তথ্য সহায়তাঃজনকন্ঠ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

নামজারি পদ্ধতি বাতিল, আর লাগবে না নামজারি; জনসাধারণের ভোগান্তির অবসান

আপডেট সময়ঃ ১০:২১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

‎অবশেষে ভূমি মালিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বাতিল করা হচ্ছে বর্তমান নামজারি পদ্ধতি। 

‎এখন থেকে আলাদা করে নামজারির আবেদন করতে হবে না। সরকার বলছে, নতুন স্বয়ংক্রিয় নামজারি (অটোমেশন) প্রক্রিয়ায় দলিল রেজিস্ট্রির সঙ্গেই সম্পন্ন হবে নামজারি।

 

‎ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই ব্যবস্থা ইতোমধ্যে দেশের ৩০টিরও বেশি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন তা সারাদেশে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমি রেজিস্ট্রির সময়ই জমির দাতা ও ক্রেতার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে। দাতা আসল মালিক কিনা, জমিতে কোনো বিরোধ আছে কিনা, জমা-খারিজ বা খতিয়ান হালনাগাদ রয়েছে কিনা-সব কিছুই একসঙ্গে নিশ্চিত করা হবে।

‎এই যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর দলিল রেজিস্ট্রির সঙ্গে সঙ্গেই ভূমি অফিস থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ যাবে, এবং সেই মুহূর্তেই নতুন মালিকের নামে নামজারি হয়ে যাবে। অর্থাৎ, আর আলাদা করে আবেদন বা দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না।

‎ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, এই স্বয়ংক্রিয় নামজারি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও হয়রানির সুযোগ বন্ধ হবে। আগে যেখানে আবেদন, ঘুষ, দেরি ও অস্পষ্টতার কারণে বছর বছর ভোগান্তি চলত, এখন একবার দলিল রেজিস্ট্রি করলেই ভূমি মালিক পাবেন খতিয়ান, হোল্ডিং নম্বর ও খাজনা প্রদানের পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র একসঙ্গে।

‎ভূমি উপদেষ্টা বলেন, “এই বছরের মধ্যেই ভূমি মালিকরা নতুন স্বয়ংক্রিয় নামজারি ব্যবস্থার সুফল পাবেন। এটি কার্যকর হলে নামজারি সংক্রান্ত দুর্নীতি, দেরি ও হয়রানি চিরতরে বন্ধ হবে।”

‎নতুন ব্যবস্থাটি বাস্তবায়িত হলে ভূমি অফিসে নামজারি নিয়ে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা আবেদন ও জনগণের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‎এছাড়াও, নতুন এই পদ্ধতির মাধ্যমে ভূমি মালিকদের জন্য আরও একটি সুবিধা হচ্ছে, তারা অনলাইনে তাদের জমির তথ্য দেখতে এবং যাচাই করতে পারবেন। এটি ভূমি মালিকদের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ভূমি মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, এই উদ্যোগের ফলে ভূমি সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। কারণ, জমির মালিকানা নিয়ে যে জটিলতা ও বিরোধ দেখা দিত, তা এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে অনেকাংশে সমাধান করা সম্ভব হবে।

‎এদিকে, ভূমি মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তারা আশা করছে যে, এই উদ্যোগের ফলে দেশে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। জনগণও এই নতুন ব্যবস্থাকে স্বাগত জানাচ্ছে এবং তারা আশা করছে যে, এটি তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

‎ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে। এতে করে ভূমি অফিসের কর্মীরা নতুন পদ্ধতিতে দক্ষভাবে কাজ করতে পারবেন। সব মিলিয়ে, এই উদ্যোগটি দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

 

 

তথ্য সহায়তাঃজনকন্ঠ