সুনামগঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাসকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত
- আপডেট সময়ঃ ১০:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
১২ আগস্ট ২০২৬
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগ ও গুলির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ওঠা সুনামগঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাসকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মামলায় তার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দায়িত্ব থেকে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির আগে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও শর্টগানের গুলি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় রাজন কুমার দাস মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন ও পুলিশের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগের মুখে পড়েন।
আন্দোলনের সময় পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে। বিশেষ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এসব অভিযোগের পাশাপাশি আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে তার দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও প্রশাসনিক তদন্তের আওতায় আসে।
কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও পলায়নের অভিযোগ;
আন্দোলনের পর অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং দায়িত্ব থেকে পলায়নের অভিযোগে রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। বিভাগীয় তদন্তে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আনা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিভাগীয় মামলার তদন্ত ও পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত বরখাস্তের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত। অনুমোদন পাওয়া গেলে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের অভিযোগ;
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও অভিযোগ তৈরি হয়। সুনামগঞ্জেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে তৎকালীন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি আন্দোলন দমনে পুলিশের বলপ্রয়োগের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন এবং গুলি ব্যবহারের নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলায় মূলত কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দায়িত্ব থেকে পলায়নের অভিযোগ তদন্ত ও প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টিই চাকরিচ্যুতির প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর রাজন কুমার দাসকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ধাপ শেষ করে বিষয়টি এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের বিষয়টি কার্যকর হবে।
সুনামগঞ্জে ২০২৪ সালের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে। তবে আন্দোলন চলাকালে বলপ্রয়োগ বা গুলির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পৃথক কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তা সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতের নথির ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।




















