০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ইরানি রাষ্ট্রদূতকে দিল্লির কড়া তলবঃ

হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজে হামলাঃ রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ০ বার পড়া হয়েছে।

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে আবারও বারুদের গন্ধ। এবার সরাসরি ইরানি বাহিনীর নিশানায় পড়েছে অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ। শনিবার ‘সানমার হেরাল্ড’ নামের ওই জাহাজটি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোড়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। 

এই ঘটনার পর তেহরানের ওপর চরম ক্ষুব্ধ নয়া দিল্লি জরুরি ভিত্তিতে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে

‎শনিবার ভারতের সরকারি একটি উচ্চপদস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ভারতীয় জাহাজ ‘সানমার হেরাল্ড’ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় আক্রান্ত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের দেওয়া তথ্যমতে, শনিবার ওই এলাকায় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, যার মধ্যে একটি ছিল ভারতীয় মালিকানাধীন।

‎তবে ভারতের জন্য স্বস্তির সংবাদ এই যে, হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও জাহাজের কোনো ক্রু হতাহত হননি। জাহাজটিরও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং বর্তমানে এটি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সূত্রগুলো।

‎বাণিজ্যিক জাহাজে এই নগ্ন হামলার ঘটনাকে ভারত সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। ঘটনার পরপরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়া দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।

কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী, এ ধরনের তলব সাধারণত অত্যন্ত কঠোর বার্তার বহিঃপ্রকাশ। দিল্লি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

‎ট্রাম্পের ঘোষণা ও ইরানের শর্তের প্যাঁচঃ

‎এই সংঘাতের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ ঘটা করেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ইরান শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে।

দীর্ঘ ৫০ দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার যখন অন্তত এক ডজন ট্যাঙ্কার এই পথ দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল শুরু করে, তখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার আশা জেগেছিল। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, সেই বহরে তিনটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজও ছিল।

তবে পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ইরানি কর্মকর্তারা শর্ত দিয়েছিলেন যে, শুধুমাত্র প্রণালি খুলে দিলেই হবে না, যুক্তরাষ্ট্রকেও ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নিতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন সেই শর্তে সায় না দেওয়ায় শনিবার থেকেই আবারও কড়াকড়ি শুরু করে ইরান। ফলে একদিনের মাথায় শান্তি আলোচনা ভেস্তে গিয়ে নতুন করে গোলাগুলি শুরু হয়।

‎হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট ব্যবহৃত খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথে উত্তেজনা মানেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়া। ভারতের মতো দেশগুলো যারা আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই অস্থিরতা বড় উদ্বেগের কারণ।

‎ইরান কেন হঠাৎ আবার কড়াকড়ি আরোপ করল এবং কেন ভারতীয় জাহাজকে নিশানা করা হলো—তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতেই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান।

‎আপাতত ভারতের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ওই জলপথে থাকা অন্যান্য ভারতীয় জাহাজের নাবিক ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

একই সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে আলোচনা করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার দাবি তুলছে নয়া দিল্লি।

 

‎তথ্যসহায়তাঃবিডিনিউজ24

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ইরানি রাষ্ট্রদূতকে দিল্লির কড়া তলবঃ

হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজে হামলাঃ রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য

আপডেট সময়ঃ ০৯:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে আবারও বারুদের গন্ধ। এবার সরাসরি ইরানি বাহিনীর নিশানায় পড়েছে অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ। শনিবার ‘সানমার হেরাল্ড’ নামের ওই জাহাজটি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোড়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। 

এই ঘটনার পর তেহরানের ওপর চরম ক্ষুব্ধ নয়া দিল্লি জরুরি ভিত্তিতে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে

‎শনিবার ভারতের সরকারি একটি উচ্চপদস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ভারতীয় জাহাজ ‘সানমার হেরাল্ড’ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় আক্রান্ত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের দেওয়া তথ্যমতে, শনিবার ওই এলাকায় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, যার মধ্যে একটি ছিল ভারতীয় মালিকানাধীন।

‎তবে ভারতের জন্য স্বস্তির সংবাদ এই যে, হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও জাহাজের কোনো ক্রু হতাহত হননি। জাহাজটিরও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং বর্তমানে এটি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সূত্রগুলো।

‎বাণিজ্যিক জাহাজে এই নগ্ন হামলার ঘটনাকে ভারত সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। ঘটনার পরপরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়া দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।

কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী, এ ধরনের তলব সাধারণত অত্যন্ত কঠোর বার্তার বহিঃপ্রকাশ। দিল্লি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

‎ট্রাম্পের ঘোষণা ও ইরানের শর্তের প্যাঁচঃ

‎এই সংঘাতের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ ঘটা করেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ইরান শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে।

দীর্ঘ ৫০ দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার যখন অন্তত এক ডজন ট্যাঙ্কার এই পথ দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল শুরু করে, তখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার আশা জেগেছিল। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, সেই বহরে তিনটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজও ছিল।

তবে পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ইরানি কর্মকর্তারা শর্ত দিয়েছিলেন যে, শুধুমাত্র প্রণালি খুলে দিলেই হবে না, যুক্তরাষ্ট্রকেও ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নিতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন সেই শর্তে সায় না দেওয়ায় শনিবার থেকেই আবারও কড়াকড়ি শুরু করে ইরান। ফলে একদিনের মাথায় শান্তি আলোচনা ভেস্তে গিয়ে নতুন করে গোলাগুলি শুরু হয়।

‎হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট ব্যবহৃত খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথে উত্তেজনা মানেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়া। ভারতের মতো দেশগুলো যারা আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই অস্থিরতা বড় উদ্বেগের কারণ।

‎ইরান কেন হঠাৎ আবার কড়াকড়ি আরোপ করল এবং কেন ভারতীয় জাহাজকে নিশানা করা হলো—তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতেই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান।

‎আপাতত ভারতের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ওই জলপথে থাকা অন্যান্য ভারতীয় জাহাজের নাবিক ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

একই সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে আলোচনা করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার দাবি তুলছে নয়া দিল্লি।

 

‎তথ্যসহায়তাঃবিডিনিউজ24