৬ লাখ কোটি ছাড়াল খেলাপি ঋণ, তিন মাসেই বাড়ল প্রায় ১৮ হাজার কোটি
- আপডেট সময়ঃ ০২:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৬ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনে একের পর এক ছাড় দেওয়ার পরও দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের লাগাম টানা যাচ্ছে না। জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। তিন মাসে বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। এই অর্থ মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক প্রান্তিকেই খেলাপি ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়েছে।
এর মধ্যেই বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং উৎপাদন খাতের চাপের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান ঋণের কিস্তি পরিশোধে সক্ষমতা হারাচ্ছে। ফলে নতুন ঋণের চাহিদা কমার পাশাপাশি পুরোনো ঋণও খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে।
বিশেষ সুবিধাতেও কমেনি সংকট;
খেলাপি ঋণ কমাতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিশেষ পুনঃতফসিল প্যাকেজ চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় প্রায় ৩০০ ঋণগ্রহীতা প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন করেন। দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ ছিল ওই প্যাকেজে।
কিন্তু সুবিধা নেওয়া কিছু গ্রাহক পুনরায় খেলাপিতে পরিণত হওয়ায় এবার শর্ত আরও শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমনকি আগের প্যাকেজের সুবিধাভোগী, যাদের অনেকেই এখনো গ্রেস পিরিয়ডে রয়েছেন, তাদেরও নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য ১৫ বছর;
গত ৩১ আগস্ট ঘোষিত নতুন প্যাকেজে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ থাকা গ্রাহকদের জন্য পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়েছে। থাকছে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড। পাশাপাশি ঋণ পুনর্গঠনের মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে চার বছর করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, আগের সহায়তার পর শিল্প খাত গ্যাস সংকট, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাসহ নানা চাপের মুখে পড়েছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ঋণ পরিশোধের শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।
শিল্প খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা;
শিল্প ও ব্যবসা খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছে। দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক এতে অংশ নিতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যবসা ও শিল্পে গতি ফিরলে ঋণগ্রহীতাদের পরিশোধ সক্ষমতা বাড়বে। এতে সময়ের সঙ্গে খেলাপি ঋণের চাপও কমতে পারে।
তবে বারবার পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়ার পরও খেলাপি ঋণ যখন ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, তখন শুধু ঋণ পরিশোধের শর্ত শিথিল করেই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য এখন জরুরি—নতুন করে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি ঠেকানো, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
















