আফতাবের দাবী- "ষড়যন্ত্র মূলক"
তাহিরপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাস্টার এজেন্টকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাবের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময়ঃ ১০:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে।
তাহিরপুর সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাস্টার এজেন্টকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে আফতাব উদ্দিনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের তাহিরপুর উপজেলার মাস্টার এজেন্ট দেলোয়ার হোসেনকে বাদাঘাট বাজারে অবস্থিত আফতাব উদ্দিনের নিজস্ব ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে টানা তিন ঘণ্টা আটকে রেখে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ধারালো কিরিচ দিয়ে দেলোয়ারকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে তার মাথা ও ডান হাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
দেলোয়ার হোসেনের আর্তচিৎকার ও নিখোঁজের খবর পেয়ে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া এবং বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা আফতাবের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেলোয়ারকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
মামলায় অভিযুক্ত অন্য দুই আসামি হলেন—সোনাপুর গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে মিলন মিয়া এবং নুরপুর গ্রামের সুজাফর মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া।
এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন সরাসরি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন: “দেলোয়ার হোসেন একজন ধূর্ত প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে আগেও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জমি সংক্রান্ত সালিশে তার বিপক্ষে রায় যাওয়ার ভয়ে সে নিজেই নিজের শরীরে জখম করে আমার ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। এটি মূলত আমাকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার একটি নীল নকশা। বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ীদের ভুল বুঝিয়ে সে আমাকে অপরাধী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করছে।”
তাহিরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।


















