সাড়ে ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদঃ
দুদকের মামলার পর বরখাস্ত কর কর্মকর্তা তানজিনা সাথী
- আপডেট সময়ঃ ০২:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
- / ৫৮ বার পড়া হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কঠোর প্রতিফলন দেখালো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নিজ এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কর অঞ্চল-ময়মনসিংহে কর্মরত উপ-কর কমিশনার তানজিনা সাথীকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত সোমবার (১৬ মার্চ) এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১০ মার্চ, যখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তানজিনা সাথীর বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই কর কর্মকর্তা তার ওপর অর্পিত পদের প্রভাব খাটিয়ে নিজের পাশাপাশি তার বাবা ও মায়ের নামেও বিশাল অংকের সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অবৈধভাবে অর্জিত এই সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা। এই দুর্নীতির অভিযোগে তানজিনা সাথীর সাথে তার বাবা মোঃ মোশারফ হোসেন মল্লিক এবং মা রাণী বিলকিসকেও আসামি করা হয়েছে।
দুদকের আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি এনবিআর কর্তৃপক্ষও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে একটি বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং মামলার ধরণ বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ মনে করছে যে, সরকারি কর্মচারী বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাকে চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন নয়। ফলশ্রুতিতে জনস্বার্থে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন তানজিনা সাথী কেবল বিধি মোতাবেক প্রাপ্য খোরপোষ ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন। প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে এনবিআর সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দুদকের তদন্ত এবং বিভাগীয় মামলার চূড়ান্ত রায়ের ওপর ভিত্তি করেই তার চাকরির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।













