০৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

জনপ্রত্যাশা পূরণে জেলা প্রশাসকদের জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:১৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে।

‎দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধার এবং নতুন সরকার গঠনের পর মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রোববার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬-এর নৈশভোজ ও মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের যে বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে জেলা প্রশাসকদের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে।

‎রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন যে, সরকারি চাকুরের মূল পরিচয় হলো তাঁরা জনগণের সেবক।

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে সরকারের সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চাবিকাঠি জেলা প্রশাসকদের হাতে থাকে। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং সরকারি সেবা যেন কোনো বাধা ছাড়াই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা জেলা প্রশাসকদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, “কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং মাঠ পর্যায়ে ‘সুশাসন’ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডিসিদের উদাহরণ তৈরি করতে হবে।”

‎রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে গত বছরের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন অপশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে জেলা প্রশাসকদের সাথে মিলিত হতে দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এটি ছিল একটি নজিরবিহীন ও অপমানজনক ঘটনা।

তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেই অগণতান্ত্রিক প্রথা ভেঙে রাষ্ট্রপতির সাথে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়ায় তিনি বর্তমান সরকারকে সাধুবাদ জানান। সেই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে জেলা প্রশাসকদের সাহসী ও পেশাদারী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

‎মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এর প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে। এই কঠিন সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা জরুরি।

তিনি জেলা প্রশাসকদের কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ দেন, যাতে অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে না পারে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনে জেলা পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

‎বক্তৃতার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে।

একইসাথে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেই তরুণদের আত্মত্যাগই আজ আমাদের একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

‎উল্লেখ্য, এবারের চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে মোট ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশ নিচ্ছে। জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে এবার রেকর্ড সংখ্যক ৪৯৮টি প্রস্তাব জমা পড়েছে, যার মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রশাসনের ব্যয় সাশ্রয় করতে এবারের সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বঙ্গভবনের এই অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসকরা পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন।

পরিশেষে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, জেলা প্রশাসকরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে তারা কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে কেবল দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োগ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জনপ্রত্যাশা পূরণে জেলা প্রশাসকদের জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের

আপডেট সময়ঃ ০৯:১৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

‎দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধার এবং নতুন সরকার গঠনের পর মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রোববার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬-এর নৈশভোজ ও মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের যে বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে জেলা প্রশাসকদের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে।

‎রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন যে, সরকারি চাকুরের মূল পরিচয় হলো তাঁরা জনগণের সেবক।

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে সরকারের সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চাবিকাঠি জেলা প্রশাসকদের হাতে থাকে। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং সরকারি সেবা যেন কোনো বাধা ছাড়াই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা জেলা প্রশাসকদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, “কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং মাঠ পর্যায়ে ‘সুশাসন’ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডিসিদের উদাহরণ তৈরি করতে হবে।”

‎রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে গত বছরের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন অপশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে জেলা প্রশাসকদের সাথে মিলিত হতে দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এটি ছিল একটি নজিরবিহীন ও অপমানজনক ঘটনা।

তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেই অগণতান্ত্রিক প্রথা ভেঙে রাষ্ট্রপতির সাথে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়ায় তিনি বর্তমান সরকারকে সাধুবাদ জানান। সেই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে জেলা প্রশাসকদের সাহসী ও পেশাদারী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

‎মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এর প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে। এই কঠিন সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা জরুরি।

তিনি জেলা প্রশাসকদের কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ দেন, যাতে অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে না পারে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনে জেলা পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

‎বক্তৃতার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে।

একইসাথে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেই তরুণদের আত্মত্যাগই আজ আমাদের একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

‎উল্লেখ্য, এবারের চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে মোট ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশ নিচ্ছে। জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে এবার রেকর্ড সংখ্যক ৪৯৮টি প্রস্তাব জমা পড়েছে, যার মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রশাসনের ব্যয় সাশ্রয় করতে এবারের সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বঙ্গভবনের এই অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসকরা পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন।

পরিশেষে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, জেলা প্রশাসকরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে তারা কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে কেবল দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োগ করেন।