০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যাদুকাটার দুই বালুমহালে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:০০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫৩ বার পড়া হয়েছে।

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া অনুমতির কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই বালুমহাল সংক্রান্ত সরকারি স্মারকের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

 

 

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ মৌলিক এখতিয়ারে করা এক রিট আবেদন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

 

 

আদালতের আদেশের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আলমগীর শাকেরের দেওয়া এক প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্টের চূড়ান্ত আদেশের পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম আদালতের আনুষ্ঠানিক আদেশ পাওয়ার পর সম্পন্ন করা হবে।

 

 

রিটের নেপথ্য ও বিবাদীপক্ষ;

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব তেঘরিয়া গ্রামের ‘জিনান এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী শাহ রুবেল আহমেদ বাদী হয়ে এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

 

 

মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি), তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), দুই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং তাহিরপুরের ‘তাহিয়া স্টোন ক্রাশার’-এর স্বত্বাধিকারী নাসির মিয়াকে বিবাদী করা হয়েছে।

 

 

যে কারণে চ্যালেঞ্জ;

রিট আবেদনের তথ্যমতে, গত ২২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ স্মারক জারি করে। ওই স্মারকে নাসির মিয়াকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদার’ হিসেবে বিবেচনা করে বাংলা ১৪৩৩ সালের অবশিষ্ট সময়ের জন্য যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়।

 

 

রিট আবেদনকারীর অভিযোগ, একই বালুমহালের ইজারা প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনিও যুক্ত ছিলেন। অথচ তাকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে এককভাবে নাসির মিয়াকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী। এটি সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমতার মৌলিক অধিকারের সরাসরি পরিপন্থী।

 

 

আদালতের রুল ও নির্দেশনা;

রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন— ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা ২২ সেপ্টেম্বরের ওই স্মারকটি কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ও ‘কার্যকারিতাহীন’ ঘোষণা করা হবে না।

 

 

একই সঙ্গে আদালত ওই বিতর্কিত স্মারকের কার্যকারিতা আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে যাদুকাটা নদী থেকে আপাতত বালু উত্তোলন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজ্ঞরা। রিটের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

যাদুকাটার দুই বালুমহালে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট সময়ঃ ০৫:০০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া অনুমতির কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই বালুমহাল সংক্রান্ত সরকারি স্মারকের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

 

 

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ মৌলিক এখতিয়ারে করা এক রিট আবেদন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

 

 

আদালতের আদেশের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আলমগীর শাকেরের দেওয়া এক প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্টের চূড়ান্ত আদেশের পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম আদালতের আনুষ্ঠানিক আদেশ পাওয়ার পর সম্পন্ন করা হবে।

 

 

রিটের নেপথ্য ও বিবাদীপক্ষ;

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব তেঘরিয়া গ্রামের ‘জিনান এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী শাহ রুবেল আহমেদ বাদী হয়ে এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

 

 

মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি), তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), দুই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং তাহিরপুরের ‘তাহিয়া স্টোন ক্রাশার’-এর স্বত্বাধিকারী নাসির মিয়াকে বিবাদী করা হয়েছে।

 

 

যে কারণে চ্যালেঞ্জ;

রিট আবেদনের তথ্যমতে, গত ২২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ স্মারক জারি করে। ওই স্মারকে নাসির মিয়াকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদার’ হিসেবে বিবেচনা করে বাংলা ১৪৩৩ সালের অবশিষ্ট সময়ের জন্য যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়।

 

 

রিট আবেদনকারীর অভিযোগ, একই বালুমহালের ইজারা প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনিও যুক্ত ছিলেন। অথচ তাকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে এককভাবে নাসির মিয়াকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী। এটি সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমতার মৌলিক অধিকারের সরাসরি পরিপন্থী।

 

 

আদালতের রুল ও নির্দেশনা;

রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন— ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা ২২ সেপ্টেম্বরের ওই স্মারকটি কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ও ‘কার্যকারিতাহীন’ ঘোষণা করা হবে না।

 

 

একই সঙ্গে আদালত ওই বিতর্কিত স্মারকের কার্যকারিতা আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে যাদুকাটা নদী থেকে আপাতত বালু উত্তোলন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজ্ঞরা। রিটের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হবে।